খেলা-ধুলা

কোনো ম্যাচ না খেলেই পূর্বাচল স্পোর্টিং ক্লাব চ্যাম্পিয়ন!

কোনো ম্যাচ না খেলেই ঢাকা তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেট লীগের বাছাই পর্বে পূর্বাচল স্পোর্টিং ক্লাব চ্যাম্পিয়ন ও নবাবগঞ্জ ক্রিকেট কোচিং একাডেমি রানার্সআপ হয়েছে!

টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণও করেছিল এই দুটি দল। মাত্র দুটি দল অংশ নেয়ায় টুর্নামেন্টের একমাত্র ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে গত মঙ্গলবার। কিন্তু বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়নি। পরে টসের মাধ্যমে ওই ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণ হয়।

এ দু’দলই তৃতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছে। তবে তৃতীয় বিভাগ বাছাই পর্বে এ নিয়ে টানা তিন আসর দুটি করে ক্লাবের অংশগ্রহণে শেষ হল।

২০০০ সালে এই টুর্নামেন্টের এন্ট্রি ফি ছিল ৫ হাজার টাকা। ১৭ বছরে এই অঙ্ক ১০০ গুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ টাকা। এ কারণেই ক্লাবগুলো অংশ নিতে চায় না।

তবে এন্ট্রি ফি বাড়ানোর পেছনে রয়েছে ক্ষমতায় থাকা বিসিবি পরিচালকদের অন্য হিসাব।

ক্লাবগুলো অংশ নিক বা না-নিক তাতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কিছু আসে যায় না। তবে এন্ট্রি ফি কমানোর কোনো চিন্তা করবে না বিসিবি। এন্ট্রি ফি ৫ লাখ টাকা

হওয়ার পর থেকেই দুটির বেশি দল এ টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে না। তৃতীয় বিভাগ বাছাই পর্বের ক্রিকেটের একটি ম্যাচ পরিচালনার জন্য বেশি অর্থেরও প্রয়োজন হয় না। কিন্তু ম্যাচ ফি কমাবে না বোর্ডের নির্দেশনায় চলা ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস (সিসিডিএম)। সিসিডিএমের সাবেক সদস্য সচিব ইকবাল চৌধুরী নিকু বলেন, ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই এ টুর্নামেন্টের এন্ট্রি ফি বাড়ানো হয়েছে। এটা অবশ্যই উচিত হয়নি।’

এই টুর্নামেন্টে দুটির বেশি দল অংশ না নেয়ায় লাভবান হচ্ছেন বিসিবির কয়েকজন পরিচালক। প্রতিবছর যে কয়েকটি দল তৃতীয় বিভাগে উঠছে সেগুলো বিসিবিরই প্রভাবশালী পরিচালকের তত্ত্বাবধানে চলে। ফলে একসঙ্গে পাঁচ লাখ টাকা এন্ট্রি ফি দিলেই তারা তৃতীয় বিভাগে উঠে যায়। বাড়তি ম্যাচ খেলে অর্থ অপচয়ের প্রয়োজন হয় না। এই দলগুলোই হয়তো পরের মৌসুমে তৃতীয় বিভাগ থেকে দ্বিতীয় বিভাগে উঠবে। এভাবেই প্রিমিয়ার লীগে জায়গা পেয়ে যাবে!

২০১০-১১ মৌসুমেও এই টুর্নামেন্টে ৪৮টি ক্লাব অংশ নিয়েছিল। অথচ শুধু অর্থ নয় আরও বেশকিছু কারণেই এ টুর্নামেন্টে ক্লাবগুলো অংশ নিতে চায় না।

সাধারণ ক্লাবগুলোর কর্মকর্তারা জানেন, তৃতীয় বিভাগের খেলায় যে ধরনের পক্ষপাতিত্ব হয় তাতে বিসিবিতে ক্ষমতার জোর না থাকলে দ্বিতীয় বিভাগে ওঠা সম্ভব নয়।

ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক দেবব্রত পাল দলের সংখ্যা কমে আসাকে ভালো চোখে দেখছেন না। তিনি বলেন, ‘দলের সংখ্যা যত বাড়বে, দেশের ক্রিকেটের জন্য তত ভালো। দল কেন কমে আসছে, সেটি বিসিবিই ভালো বলতে পারবে।’