বিনোদন

কেবিনে নয় ওয়ার্ডে রেখেই চলছে লাকি আখন্দের চিকিৎসা!

10_83464ধারণাটা এমন না থাকলেও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে তার চিত্র দেখে অনেকটাই অবাক হবেন যে কেউ। তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ দু’মাস ধরে শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যান্সারের চিকিৎসা নিচ্ছিলেন লাকি আখন্দ। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে সেই মেডিকেলের তথ্য অনুসন্ধান কেন্দ্রে লাকি আখন্দের নাম শুনতেই কর্মরত অনেকেই বেশ অবাক হয়েছেন।

কারণ এ নামে নাকি কোনো রোগী নেই তাদের এ বিল্ডিংয়ে। এমন কি তিনি কে, নামটি শুনেও কেউ চিনতে পারেননি। বিষয়টি আরেকটু পরিষ্কার হওয়ার জন্য ভিআইপি ক্যাবিনের ফ্লোরের দিকে যেতেই চোখে পড়ল প্রতি ফ্লোরেই রোগীদের তথ্যের জন্য আলাদা আলাদা অনুসন্ধান কেন্দ্র। প্রতিটি ফ্লোরের রিসিপশনে সেই ফ্লোরে রোগীদের তথ্য দেয়া থাকে। সেখানে কর্মরত চিকিৎসক এবং নার্সদেরও দেখা পাওয়া গেল। তাদের কাছে বিস্তারিত বলেও কোনো তথ্যের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এমনকি বিষয়টি নিতান্তই সময় নষ্ট তাদের ব্যবহারে তা বুঝতে আর বাকি রইল না। তাহলে শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিআইপি ক্যাবিনে লাকি আখন্দের চিকিৎসা হচ্ছে এমন তথ্য কি নিছক লোক দেখানো? প্রশ্ন আসাটাই স্বাভাবিক।

বিশেষ সূত্রে নতুন খবরের সন্ধান পাওয়া গেল। একটি বিশেষ ওয়ার্ডে আছেন তিনি? কেবিন নয়, ওয়ার্ড! অবাক হওয়ারই কথা। সময় নষ্ট না করে সেই ওয়ার্ডের খোঁজে পাঁচতলায় উঠতেই চোখে পড়ল সামনেই দুটি শ্রেণীকক্ষ। পাশে দুটি পুরনো সোফা রাখা। পরিবেশটা এমন ছিল দেখে মনে হবে লাকি আখন্দের মতো একজন গুণী মানুষকে এখানে রাখতেই পারেন না। তারপরও কৌতূহলবশত ভেতরে যেতেই চোখ আটকে গেল একটি বোর্ডের দিকে। যদিও পাশে কর্মরত চিকিৎসকের চেম্বার। কিন্তু তার দেখা মিলল না একবারের জন্যও। বোর্ডে কয়েকজন রোগীর নাম লেখা। সম্ভবত ওই ওয়ার্ডে কতজন রোগী আছেন তাদের তালিকা। সংখ্যায় ৭-৮ হবে। একদম শেষের আগের নামটি ছিল লাকি আখন্দের। ৩ ঘণ্টা খোঁজার পর তার দেখা মিলল। ভেতরে ঢুকতেই ভ্যাপসা গন্ধ আর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ চোখে পড়ল। এখানেই চলছে কিংবদন্তি সুরস্রষ্টা লাকি আখন্দের চিকিৎসা! এটারই নাম তাহলে ভিআইপি কেবিন! কৌতূহলী হয়ে অনেকেই এগিয়ে এসে জানতে চাইলেন কোন রোগীর কাছে এসেছেন? লাকি আখন্দের নাম বলতেই দেখিয়ে দিলেন ওয়ার্ডের এক কোনায় একটি বিছানায় মলিন চেহারায় শুয়ে আছেন লাকি আখন্দ। পরিচয় দিতেই হাত ধরে ওঠে বসার বৃথা চেষ্টা করছিলেন তিনি। কিন্তু পারছিলেন না। শেষে অন্যের সাহায্য নিয়ে বসলেন। কেন তাকে কেবিনের পরিবর্তে ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা করানো হচ্ছে? কিছুদিন আগেও তো তাকে চিকিৎসা বাবদ ঢাকা দক্ষিণ মেয়র আনিসুল হকের উদ্যোগে ৪০ লাখ টাকা প্রদান করা হল। তাহলে কেন এভাবে অবহেলায় চলছে কিংবদন্তির চিকিৎসা?

গানের কথার অলংকার হয়েছে সুর। কালক্রমে মানুষের মাঝে সুর বেঁচে থাকে গানের কথা দিয়ে। সুরকে বৈচিত্র্যপূর্ণ করতে এ দেশে সফলতম ব্যক্তিদের সামনের সারির একজন গুণী সঙ্গীতব্যক্তিত্ব লাকি আখন্দ। গলার গায়কী আর হাতের টোকা দিয়ে অভিনব, অথচ শ্রুতিমধুর ছন্দ সৃষ্টির কৌশল সফল প্রয়োগের অগ্রপথিক দাবিদারও বলা যায় তাকে। ১৯৫৬ সালের ১৮ জুন পুরনো ঢাকার পাতলা খান লেনের এক সঙ্গীতানুরাগী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এ গুণী শিল্পী। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই একের পর এক জনপ্রিয় গানের সৃষ্টি করেছেন এ কিংবদন্তি। ‘লিখতে পারি না আজ কোনো গান তুমি ছাড়া’, ‘আবার এলো যে সন্ধ্যা’, ‘এই নীল মনিহার’, ‘যেখানে সীমান্ত তোমার’, কবিতা পড়ার প্রহর এসেছে রাতের নির্জনে, ‘তুমি কী দেখেছো পাহাড়ি ঝরনা’, ‘তুমি ডাকলে কাছে আসতাম সে তো জানতেই’সহ আরও অনেক জনপ্রিয় গান তার গাওয়া, সুরারোপ ও সঙ্গীতায়োজনে করা। এমন সব গান শ্রোতাদের হৃদয়ে চিরদিনের জন্য ঠাঁই নিয়েছে যে সুরে তুলে দিয়েছেন তাতে প্রমাণ হয়, লাকি আখন্দ জন্মেছেন কালোত্তীর্ণ সৃষ্টির নেশায়। অথচ এই কিংবদন্তির চিকিৎসা চলছে লোকারণ্য একটি ওয়ার্ডে! কেন? যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ যারা নাচতে জানেন না, তারা অবশ্যই এই বুড়ার নাচ দেখবেন (ভিডিও)

Advertisements

Add Comment

Click here to post a comment