মতামত/বিশেষ লেখা/সাক্ষাৎকার

‘কেন আমাকে ভোট দেবেন’-হিলারি ক্লিনটন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প

ht‘কেন আমাকে ভোট দেবেন’ শীর্ষক পৃথক লেখা নিয়ে ভোটারদের সামনে হাজির হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিজয়ী হলে প্রথম ১০০ দিনে কে কী করবেন লেখায় সংক্ষেপে উঠে এসেছে। মার্কিন দৈনিক ইউএসএ টুডে পত্রিকা ‘নির্বাচনের আগে শেষ বিতর্ক’ শিরোনামে লেখা দুটি পৃথকভাবে প্রকাশ করে।

 হিলারি ক্লিনটন

জানুয়ারিতে আমেরিকা একজন নতুন প্রেসিডেন্ট পাচ্ছে। আসছে পরিবর্তন। কিন্তু কেমন সে পরিবর্তন? আমরা এমন এক অর্থনীতি গড়তে পারি, যা সবার স্বার্থ দেখবে, কিংবা ধনীদের আরো ধনী বানানোর পথ করে দিতে পারি। শক্তি-সামর্থ্যে আমরা আমেরিকাকে আরো নিরাপদ করতে পারি; কিংবা বন্ধুদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে সংকটের আবর্তে নিজেরা হাতড়ে মরতে পারি। শক্তিশালী ও সৎ আমেরিকা গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমরা হতে পারি ঐক্যবদ্ধ; কিংবা ভয় পেতে পারি ভবিষ্যেক, এমনকি একে অপরকেও। ফার্স্ট লেডি, সিনেটর কিংবা পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে যা কিছু আমি করেছি, সবার মত নিয়ে করেছি; এমনকি আমার সঙ্গে একমত নন এমন ব্যক্তিদের কথাও শুনেছি। মঙ্গলবার আমাকে যদি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করেন, এ রকম করেই আপনারা আমাকে পাবেন।

বিজয়ী হলে প্রথম ১০০ দিনে চারটি কাজ আমি অগ্রাধিকার দিয়ে করব, যেগুলো আমি শুনে এসেছি দেশের মানুষের মুখে। প্রথমত, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে এমন উদ্যোগ নেব, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আমেরিকার মানুষ যা কোনো দিনই দেখেনি। আগামী দিনগুলোয় আমরা অবকাঠামো ও উৎপাদন খাতে ব্যাপক হারে বিনিয়োগ করব। পর্যাপ্ত নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন করে এক দশকের মধ্যে আমেরিকার প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দেব। লাল ফিতার দৌরাত্ম্য আর ক্ষুদ্র ব্যবসার পথে বাধা হয়ে থাকবে না। ব্যবসায়ীরা আরো সহজে ঋণ পাবে। ঋণের এই অর্থ সংগ্রহে আমরা যাব বিত্তশালীদের কাছে। ওয়াল স্ট্রিটসহ বড় কম্পানিগুলোকে শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব নিতেই হবে। প্রথম ১০০ দিনের পরও এই কর্মসূচি চলমান থাকবে।

দ্বিতীয়ত, অভিবাসন কর্মসূচি ঢেলে সাজানো হবে। সর্বশেষ সর্বজনীন অভিবাসন সংস্কার করেছিলেন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান। পরিবারগুলোকে একসঙ্গে রাখা, নাগরিকত্ব লাভের পথ সুগম করা, সীমান্ত নিরাপত্তা বৃদ্ধি, দুর্ধর্ষ অপরাধীদের বাগে আনা—সংস্কার কর্মকাণ্ডে এ সবকিছুই প্রাধান্য পাবে।

তৃতীয়ত, ওয়াশিংটন প্রশাসনকে স্বচ্ছ করতে রাজনীতি থেকে গোপন ও কালো অর্থ বিদায় করা হবে। কলুষিত রাজনীতি আমেরিকার মানুষকে ডোবাচ্ছে। তাই ‘সিটিজেনস ইউনাইটেডে’ বদল আনতে প্রথম ৩০ দিনেই আমি সংবিধানে সংশোধনী আনব। নাগরিকদের ভোটাধিকার সুরক্ষা আমাদের করতেই হবে, যাতে করপোরেশনগুলো নির্বাচনকে আর কিনে নিতে না পারে।

চতুর্থত, বিচারপ্রক্রিয়ায় সংস্কার আনব। সহিংস নয় এমন অপরাধের জন্যও অনেক মানুষকে দিনের পর দিন জেল খাটতে হচ্ছে। আমাদের দেশ তখনই শক্তিশালী হবে যখন আইনকে সবাই সম্মান করবে, যখন আইনের চোখে সবাই সম্মানিত বোধ করবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প

গত ১৭ মাস আমি আমেরিকা চষে বেড়িয়েছি, সর্বস্তরের অসংখ্য আমেরিকানের সঙ্গে কথা বলেছি। আপনাদের প্রত্যাশাই আমার প্রত্যাশা হয়ে গেছে, আপনাদের স্বপ্নই এখন আমার স্বপ্ন। ‘আমরা আবারও আমেরিকাকে মহান বানাতে পারি’—এই ধারণায় সমর্থন দিয়ে লাখো মানুষ আমাকে উদ্দীপ্ত করেছে।

আমার সত্যিকারের সংস্কারকাজ শুরু হবে কর্মসংস্থানের গলা টিপে ধরা ওবামা কেয়ারকে হটিয়ে। আমাদের ভয়াল অনেক বাণিজ্য চুক্তি আছে, সেগুলো সংশোধন করতে হবে। চুক্তিগুলো আমাদের চাকরি কেড়ে নিয়েছে, আয়ে ধস নামিয়েছে। বিল ও হিলারি ক্লিনটনের নাফটা চুক্তি, চীন-মার্কিন কিছু চুক্তির দরুন আমাদের বেকারত্ব আমদানি করতে হচ্ছে, আমাদের সম্পদ চলে যাচ্ছে বাইরে। এখন অনেক অভিবাসী সন্তানদের এমন স্কুলে পড়াতে বাধ্য হচ্ছে যেখান থেকে পাস করাই কঠিন। আমি প্রত্যেক মা-বাবাকে ভালো কোনো স্কুলে তাদের সন্তান পাঠানোর অধিকার দিতে চাই। নিম্ন আয়ের আফ্রিকান-আমেরিকানদের পাশে, হিস্পানিকদের পাশে দাঁড়াতে চাই। তাদের অনেক ক্ষতি করেছেন হিলারির মতো রাজনীতিবিদরা।

অনেক সমস্যা ঠিক করতে হবে, অনেক কিছু সারাতে হবে। ঝেঁটিয়ে বিদায় করতে হবে সরকারে জেঁকে বসা দুর্নীতি। অতীতের ব্যর্থ রাজনীতিবিদদের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ করে নতুন ও উজ্জ্বল ভবিষ্যেক আলিঙ্গনের সময় এসেছে। এসব লক্ষ্য পূরণে আমি ‘কনটাক্ট উইথ দ্য আমেরিকান ভোটার’ নামে ১০০ দিনের এক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছি। আমি ভালো বেতনের আড়াই কোটি চাকরির সুযোগ তৈরি করব। মধ্যবিত্ত শ্রেণির কর ৩৫ শতাংশ হ্রাস করব।

সীমান্তও আমাদের দ্রুত নিরাপদ করতে হবে। অবৈধ অভিবাসন বন্ধ ও চরমপন্থী ইসলামী সন্ত্রাসীদের আমেরিকা থেকে দূরে রাখতে হবে। আপনাদের ভুলে গেলে চলবে না, হিলারি ক্লিনটন ‘উন্মুক্ত সীমান্ত’, ‘ম্যাস অ্যামনেস্টি’ ও সিরীয় শরণার্থী গ্রহণ ৫৫০ শতাংশ বৃদ্ধির অঙ্গীকার করেছেন। আমেরিকার অভিবাসন কর্মকর্তারা হিলারির এই চরমপন্থী পরিকল্পনাকে বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে র‌্যাডিক্যাল অভিবাসন এজেন্ডা’।

আমি সংবিধানের আলোকে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করব। এ কাজ করতে সক্ষম হবেন এমন একজন বিচারপতিই সুপ্রিম কোর্টে দেব। সর্বোপরি আমি লড়াই করব আমেরিকার প্রতিটি শিশুর নিরাপদে ও শান্তিতে বেড়ে ওঠার অধিকারের লক্ষ্যে। আমাকে ভোট দিয়ে হোয়াইট হাউসে পাঠান, আমরা সবাই মিলে আরো একবার আমেরিকাকে মহান দেশ হিসেবে গড়ে তুলব।

সংক্ষিপ্ত ভাষান্তর : গাউস রহমান পিয়াস

Advertisements

Add Comment

Click here to post a comment