লাইফ স্টাইল স্বাস্থ্য

কেন আপনার খালি পায়ে হাঁটা উচিত?

সময় হয়েছে এবার জুতোজোড়া এক পাশে রেখে ভেজা মাটিতে পা রাখার ময়লা আবর্জনা দেখে যতই নাক সিঁটকান না কেন। পরামর্শটা কোনো কবি-সাহিত্যিকের নয়। খোদ বিজ্ঞানীরাই দিয়েছেন। কিন্তু এত এত জুতার বাহার থাকা সত্ত্বেও কেন হাঁটবেন খালি পায়ে?

কারণগুলো জানুন:

ঘুমের সমস্যা: আমাদের পূর্বপুরুষরা বুদ্ধিমান ছিলেন বটে। তারা জানতেন মাটির কাছাকাছি থাকার উপকারিতা। এ কারণে তারা বিষণ্ন হতেন কম। কারণ খালি পায়ে মাটিতে পা রাখা মাত্রই আপনার শরীরের পজিটিভ আয়ন চলে যায় মাটিতে। আর মাটি থেকে নেগেটিভ আয়ন উঠে আসে শরীরে। ওই নেগেটিভ আয়ন কাজ করে সোনার কাঠির মতো। দূরে করে দেয় বিষণœতা ও মনকে রাখে প্রফুল্ল। যার ফলে ঘুম হবে আগের চেয়ে ভাল।

দৃষ্টিশক্তি: ডাক্তাররা অনেক সময়ই চোখের রোগীদের সকালে খালি পায়ে ঘাসের ওপর হাঁটতে বলেন। এতে করে পায়ের নানান ‘প্রেশার পয়েন্টে’ চাপ পড়ে। শুরু হয় আকুপ্রেশার ইফেক্ট। আর এ চাপ থেকেই বাড়বে চোখের জ্যোতি।

দেহভঙ্গি: ফ্যান্সি জুতো মানেই একটু এদিক ওদিক হবেই। মানে শরীরটা সোজা সাপ্টা রাখা দায়। হাই হিলের কথাই ধরুন না। পায়ের যত সমস্যা, তার জন্য হিলযুক্ত জুতা অনেক বেশি দায়ী। এমনকি ব্যাক পেইনের নেপথেও রয়েছে জুতো। অথচ খালি পায়ে হাঁটার ফলে কিন্তু শরীরের ভারসাম্য রক্ষা পায়। পায়ের ক্ষমতাও বাড়ে। ব্যায়াম হয় গোড়ালি ও আঙুলেরও।

সচেতন ইন্দ্রিয়: প্রাকৃতিক সেন্সর হিসেবে কাজ করে আমাদের শরীরের নানান অংশ। পা-ও ব্যতিক্রম নয়। আর জুতোর কারণে আমরা প্রাকৃতিক অনেক অনুভূতি থেকে বঞ্চিত হই। যেমন বৃষ্টির ঠাণ্ডা পানির স্পর্শ বা নরম কাদামাটির ছোঁয়া। এগুলো নিয়মিত পেতে থাকলে আপনার ইন্দ্রিয় আরো সজাগ হবে এবং হয়ে উঠবেন আরো প্রখর অনুভূতিসম্পন্ন।

রক্তপ্রবাহ: গবেষণায় এটাও দেখে গেছে যে খালি পায়ে হাঁটার ফলে শরীরের ওপর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাব পড়ে ঠিকঠাকভাবে। এতে শরীরে রক্তপ্রবাহের গতিও বাড়ে।

হৃদরোগ ঠেকাবে: আর রক্তপ্রবাহের গতি ঠিকঠাক থাকা মানেই হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকখানি কমে গেল। এ ছাড়াও খালি পায়ে হাঁটার কারণে রক্তের লোহিত কণিকাগুলো বাড়তি চার্জ পায় এবং এতে করে রক্তের ঘনত্ব বাড়বে না।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: খালি পায়ে হাঁটলে শরীরে ঢোকার সুযোগ পায় ছোটখাট অণুজীব। এর মধ্যে কিছু উপকারী। কিছু অপকারী। দুটোই কিন্তু এক দিক দিয়ে ভাল। খালি পায়ে হাঁটা শুরু করলেই সজাগ হয় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। এতে ওদের কাজও বাড়ে, ব্যায়ামও হয়। আবার পায়ের পাতা বেয়ে উঠে আসা নানান অনুভূতিগুলো আমাদের স্নায়ুকেও রাখে কর্মচঞ্চল।

প্রখর মগজ: খেয়াল করলে দেখবেন মার্শাল আর্ট ও ইয়োগা চর্চা করা হয় খালি পায়েই। আমাদের শরীরের ৭০ ভাগই পানি। আমরা যতই খালি পায়ে থাকবো, ওই পানিটা তত ভাল কাজ করবে। এতে করে এক ধরনের আয়নিক ভারসাম্য তৈরি হয় এবং নিজের শরীর ও মনের প্রতি এক ধরনের ভালো থাকার অনুভূতি তৈরি হয়। মনের ওপর দখলদারিত্বের ক্ষমতাও বাড়ে।



আজকের জনপ্রিয় খবরঃ

গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপ:

  1. বুখারী শরীফ Android App: Download করে প্রতিদিন ২টি হাদিস পড়ুন।
  2. পুলিশ ও RAB এর ফোন নম্বর অ্যাপটি ডাউনলোড করে আপনার ফোনে সংগ্রহ করে রাখুন।
  3. প্রতিদিন আজকের দিনের ইতিহাস পড়ুন Android App থেকে। Download করুন