slider অর্থনীতি-ব্যবসা জাতীয়

‘কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্ণ ক্ষমতায়ন দরকার’

খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ ও ব্যাংক ব্যবস্থায় সুশাসন নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্ণ ক্ষমতায়ন দরকার। একই সঙ্গে ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে শক্ত হাতে বন্ধ করতে হবে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঋণ সংক্রান্ত মামলার নিস্পত্তি হওয়াও জরুরী।

খেলাপি ঋণ ইস্যুতে এমন মত দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক ড. জামাল উদ্দিন আহমেদ ও সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ। আর অর্থপ্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান মনে করেন, ব্যাংক ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার।

সোমবার সংসদে ১০০ শীর্ষ ঋণ খেলাপি প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, এপ্রিল পর্যন্ত মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা। দীর্ঘদিন ধরে নানামুখী উদ্যোগের পরও কমছে না খেলাপি ঋণের পরিমাণ। ফলে এই ইস্যুতে সমালোচনার মুখে পড়েছে সরকার।

এম এ মান্নান

ব্যাংকিংখাতের সুশাসন নিশ্চিত করতে কর্মপন্থা হাতে নিয়েছে সরকার। পরিচালনা পর্ষদ পরিবর্তন করা হয়েছে। শর্ত ছিল, খেলাপি ঋণ কমানোর পদক্ষেপ নিতে হবে। তবে এমন অনেকেই আছেন, যারা ঋণ নিয়ে এখন লাপাত্তা। অনেকের সম্পদই নেই। তাই সার্বিক দিক বিবেচনা করে পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার।

তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকের অনেক সম্পদ রয়েছে, প্রশিক্ষিত জনবল রয়েছে। সব দিক বিবেচনা করে সরকার ব্যাংকগুলোকে সহায়তা অব্যাহত রেখেছে।

জামালউদ্দিন আহমেদ

রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের অর্থ আত্মসাত করেই অনেকে বিভিন্ন ব্যাংকের মালিক হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক জামালউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, কিন্তু তাদেরকে দেশের আইন-আদালত আটকাতে পারছে না। ব্যাংকে পুরস্কার ও শাস্তির ব্যবস্থা থাকা উচিত। একজন এমডির বিরুদ্ধে বারবার দুর্নীতির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাকে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। আমাদের দেশে এসবের বিচার হচ্ছে না। যারা দুর্নীতির সাথে যুক্ত তাদেরকেই পদোন্নতি দেয়া হচ্ছে। আর যারা ব্যাংকিং ব্যবস্থায় সততার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন তাদের সেভাবে পুরস্কৃত করা হচ্ছে না।

তিনি বলেন, ম্যানেজমেন্ট যদি অনিয়মের সাথে আপস করে ঋণ দিয়ে দেয়, তাহলে সেটা খেলাপি হবেই। এছাড়াও বেসরকারি ব্যাংকের সংখ্যা এত বেড়ে গেছে যে তাদের মধ্যে অসম প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। এজন্য কেউ কাগজপত্র ভালোভাবে যাচাই-বাছাই না করেই ঋণ দিচ্ছে। বেনামে ঋণ আছে, ধরাও পড়েছে। কিন্তু যখনই কারো বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেয়া হচ্ছে তখনই সেটা রিট পিটিশন করে আটকে দেয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক স্বাধীন নয়, তারা সরকারের একটা বিভাগ হিসেবে কাজ করছে। আমাদের আশপাশের অনেক দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক যেমন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, বাংলাদেশ ব্যাংক তেমন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না।

খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ

সংসদে খেলাপি প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করায় জনগণ জানতে পেরেছে, এটি ভালো দিক। তবে, ব্যক্তির নাম ও কার কাছে কতো অর্থ খেলাপি সেই তথ্য প্রকাশ করলে ভালো হতো বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ।

তিনি বলেন, টাকাটা কিন্তু ব্যাংকের না, জনগণের। এজন্য জনস্বার্থে খেলাপি অর্থ উদ্ধারে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। কারণ, বড় খেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যাংক যখনই মামলা করতে যায় বা সম্পত্তি বিক্রি করতে যায়, তখনই তারা হুমকি দিয়ে, বড় কোনো অর্ডারের মাধ্যমে সেটা স্থগিত করে দেয়। ফলে টাকা আদায় প্রক্রিয়া আটকে যায়।

তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রণালয়ের ব্যাংকিং বিভাগ চালু হওয়ার পর খেলাপি ঋণ বেড়েছে। এ বিভাগটি অবিলম্বে বিলুপ্ত করা উচিত।

তিনি বলেন, অর্থসচিব সিনিয়র, তিনি দেখবেন। বাকিটা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর অর্পণ করা দরকার। যেটা সরকার করেনি। কারণ, বাংলাদেশ ব্যাংকের হাত কেটে রাখা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের পরিচালক নিয়োগে তাদের আইনি ক্ষমতা কেড়ে নেয়া হয়েছে। তাদের ক্ষমতা জোর করে ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। বেসরকারি ব্যাংকের ওপর বাংলাদেশ ব্যাংকের বেশি নিয়ন্ত্রণ আছে বলে সেখানে খেলাপি ঋণ ৫ বা ৬ শতাংশ, কিন্তু রাষ্ট্রীয় ব্যাংকে এর পরিমাণ ২৫ শতাংশ। এ অবস্থার অবসানে বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনি সক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে হবে।



সর্বশেষ খবর