মতামত/বিশেষ লেখা/সাক্ষাৎকার

কী পরিবর্তন আনবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প?-করুণাময় গোস্বামী

করুণাময় গোস্বামীডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার ৪৫তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন।  তিনি বিপুল ইলেকটোরাল ভোটের ব্যবধানে হিলারি ক্লিনটনকে পরাভূত করেছেন। এমন যে হবে, সে কেউ ভাবেনি। নির্বাচনের একেবারে শেষের দিকে এফবিআই থেকে ই-মেইল স্থানান্তরের পুরনো অভিযোগের কিছু নতুন দৃষ্টান্ত উত্থাপন করলে হিলারির অগ্রযাত্রার বেগ একটু থেমে যায়, কিন্তু প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই এফবিআই জানিয়ে দেয় যে অনিয়ম হয়তো কিছুটা হয়েছে; কিন্তু আপত্তিকর কিছু পাওয়া যায়নি। সঙ্গে সঙ্গে সিএনএন জানায়, হিলারির রথ যেমন চলছিল তেমন চলছে, এর গতি থামানো যাবে না। বিজয়ের মালা হিলারির গলায় দুলবেই। ভোটাভুটি শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ আগে সর্বশেষ জনমত জরিপ উদ্ধৃত করে জানায়, হিলারি বেশ কয়েক পয়েন্টে এগিয়ে আছেন। হিলারি ক্লিনটন জিতবেন—সে কথা সবাই ধরে নিয়েছিল। ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কেউ সমর্থন করছে না, না মিডিয়া, না থিংকট্যাংক, না সেলিব্রিটি, আর আজকাল সেলিব্রিটি মানেই ফিল্মের ছেলেমেয়েরা, যারা যত না চোখে তার চেয়ে বেশি নাকে, না চিন্তাশীল সুধীসমাজ। সবাই একবাক্যে ট্রাম্পের পথ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছে। এ অবস্থায় কি ভরসা আছে ডোনাল্ডের জেতার, হিলারি ক্লিনটন বিতর্কের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ডোনাল্ড বলে সম্বোধন করবেন বলে বলেছিলেন। সেই ডোনাল্ড, ক্লিন বোল্ড করলেন মিডল স্টাম্প উড়িয়ে দিয়ে। খেলাটা শেষ পর্যন্ত এমন হবে কেউ ভাবতে পারেনি।

এখন চিন্তাশীল লোকেরা বলছেন, ভাবতে হবে নিশ্চয়ই কেন এমন হলো। রাজনীতির বৃত্তের বাইরের একজন মানুষ। যিনি মারপ্যাঁচ রেখে কথাই বলতে জানেন না, ভাষা, ভাবভঙ্গি একেবারেই চাঁছাছোলা, অভিবাসীদের নিয়ে এমন করে কথা বলেন, যা শালীনতার সীমায় থাকতে চায় না। যিনি এতটাই আমেরিকার ভেতর নিয়ে ব্যস্ত যে বাইরে গিয়ে সময় দিতে চান না বলে মনে হয়, তাঁকে তো আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়া মানায় না। প্রথম প্রেসিডেনশিয়াল ডিবেট শুনে আমি কালের কণ্ঠ’র জন্য একটি লেখা পাঠিয়েছিলাম। তাতে আমি বলেছিলাম, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট একজন বিশ্বনেতা বা সর্বপ্রধান বিশ্বনেতা। আমি এই বিতর্কে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট দেখতে পাই, বিশ্বনেতাকে দেখতে পাই না। রাজনীতি ছোট হয়ে আসছে। রাজনীতির মানুষগুলো ছোট হয়ে আসছেন। পৃথিবী টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছে আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণে এখন, অথচ এখনই সময় ছিল এক হওয়ার। এখন সময় ছিল মানুষকে মানুষের ভালোবাসার; কিন্তু ঘৃণার আয়োজন ব্যাপক হচ্ছে। এখন সময় হয়েছিল, রবীন্দ্রনাথের ভাষায়, আপন হতে বাহির হয়ে বাইরে দাঁড়াবার; কিন্তু মানুষ শুধু ভেতরে ঢোকার ইচ্ছা পোষণ করছে, ভেতরে ঢুকে দরজা-জানালা লাগিয়ে দিয়ে বসতে চাইছে। অদ্ভুত অন্ধকার পৃথিবীকে ঘিরে ধরছে। এই অন্ধকার ভেদ করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টায় নেতৃত্ব দেবে আমেরিকা, রাশিয়া, চীন ও ভারত। তাদের সমর্থন করবে কানাডা, জাপান, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইংল্যান্ড। মানুষের ইতিহাসে আলোক উৎসবে আমন্ত্রণ জানানোর সর্বশ্রেষ্ঠ এই সময়ে সর্বপ্রধান আমন্ত্রণকারী হবে আমেরিকা। কেননা শিক্ষা-গবেষণা-প্রকাশনা-আলোচনা—এসবে এ দেশই সর্বোত্তম-অগ্রণী। এদের ইনক্লুসিভ ডেমোক্রেসির মধ্যে মানুষের আত্মপ্রকাশের অশেষ সুযোগ। নির্বাচন হয়ে গেল। বৃহতের দিকে মন ফেরানোর মতো কিছু ঘটল বলে মনে হলো না, কিছু ঘটবে বলেও মনে হচ্ছে না।

দীর্ঘদিন অধ্যাপনা করে ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব শেষ করে নিউ ইয়র্কে বসবাস করছেন ভারতীয় আমেরিকান নারায়ণ মিশ্র। ওড়িশায় জন্ম। পাক্কা সাহেব একেবারে। স্ত্রী আমেরিকান, দুই বাচ্চা, তাঁরাও প্রবীণের দলে। লেখাটি লেখার আগে তাঁর সঙ্গে অনেকক্ষণ আলাপ ফোনে। রবীন্দ্রনাথের ওপর বক্তৃতা করেছিলাম বছর দুই আগে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে। তিনি শুনতে এসেছিলেন। সে থেকেই যোগাযোগ। তিনি বললেন, ‘খেয়াল করেছেন নিশ্চয়ই, এই নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে যাঁরা চিন্তাশীল আলোচনা করতেন বা করতে পারেন, তাঁরা সবাই হিলারি ক্লিনটনের সমর্থক। তাঁরা সবাই এখনো একটা শকের ঘোরে আছেন। ভাবতেই পারছেন না, কী বলবেন। এর মধ্যে একজন কৃষ্ণাঙ্গ বিশ্লেষক একটি ধারণা দিয়েছেন, মোক্ষম কথা বলব আমি, তিনি বলেছেন এই নির্বাচন হচ্ছে একটি প্রচণ্ড হোয়াইট ল্যাশ। একটি তীব্র কশাঘাত শ্বেতাঙ্গ আমেরিকানদের পক্ষ থেকে। এ কথা শুনে আমার মেয়ে নুমি বলল, ল্যাশ কথাটা কেমন জানি কর্কশ হয়ে গেল, রাজনীতির বাইরের শব্দ, চোর-বাটপার পেটানোর মতো মনে হয় যেন। বাবা চোখ বুজে ভেবে দেখো, বিশাল মাঠ, লাখ লাখ শ্বেতাঙ্গ আমেরিকান চাবুক হাতে দাঁড়িয়ে, কেউ বলল, ওয়ান-টু-থ্রি, যেই না থ্রি বলা, সঙ্গে সঙ্গে ওরা দুমদাম ঘা লাগাতে থাকল মাটির গায়ে, সবাই জানুক আমরা ঘা দিয়ে অধিকার আদায়কারী। বলেই মেয়ের কী হাসি! ঠিক বললাম না, বলো, তার চেয়ে রাজনৈতিক শব্দ বলো রেভল্যুশন, হোয়াটই রেভল্যুশন ভোটের মাধ্যমে। আমি বললাম, সে তো ভালো, চাবুক থেকে ব্যাপারটা ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নিয়ে এলি, বোঝালি যে ব্যাপারটা গায়ের জোরের নয়, মনের জোরের। বাকি ব্যাপারটা তো আপনি জানেন। এর আগেও এ নিয়ে আপনার সঙ্গে কথা হয়েছে। ট্রাম্প অনেক ভোট পাবেন সে আমি ভেবেছি, কিন্তু এত ভোট পাবেন তা আমি ভাবিনি। এখানে কেউ ভাবতে পারেনি। শুধু নিজের জন্য নয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প সিনেটের জন্য, হাউসের জন্য আশ্চর্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে এসেছেন। সবাই হোয়াইট ল্যাশ বা শ্বেত বিপ্লব, যা-ই বলুন, ঘটনা একটাই। হিলারি ব্যাপারটা বুঝতে পারেননি। তিনি পরাজয় স্বীকার করে নেওয়ার পর এক ভাষণে বলেছেন, আমেরিকা যে এতটা বিভক্ত হয়ে পড়েছে, তা তিনি বুঝতেই পারেননি। তা কেউ বুঝতে পারেননি। পারেননি বলেই আশা করেছেন হিলারি জিতবেন।’

এখানকার ব্যাপারটাও ব্রেক্সিটের মতোই। ইংল্যান্ড বেরিয়ে এলো ইইউ থেকে। ইংল্যান্ডের যারা মূল মানুষ তারা চায় তাদের দেশ তাদের কাছে থাকুক, বাইরে থেকে মানুষ এসে দেশকে ছিনিয়ে নিচ্ছে। এরা কাজে ভাগ বসাচ্ছে, বিনিয়োগে ভাগ বসাচ্ছে, উত্পাদনে ভাগ বসাচ্ছে, বণ্টনে ভাগ বসাচ্ছে, সুখে ভাগ বসাচ্ছে, স্বপ্নে ভাগ বসাচ্ছে, যা তারা চায় না। এত দিন চেয়েছিল। মনে হয়েছিল এতেই সুখ হবে বেশি। কিন্তু দেখা যাচ্ছে দুঃখ বাড়ছে ক্রমেই এবং এভাবে যদি চলতে থাকে, দুঃখ আরো বাড়বে। আর সম্প্রসারণ নয়, এবার জাল গোটাও। নিজের দেশকে নিয়ে নিজের মতো করে সাজো।

আমেরিকায়ও একই ঘটনা। অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়ছে। অভিবাসী আগন্তুকরা দিন দিন বাড়ছে সংখ্যায়। দেশের কাজে তাদের অংশগ্রহণ দিন দিন বাড়ছে। চোখের সামনে দেখা যাচ্ছে একজন গড় ভারতীয় একজন গড় আমেরিকানের চেয়ে দ্বিগুণ আয় করে। সংখ্যায় তারা ১ শতাংশের নিচে, উচ্চশিক্ষায় তারা ১৩ শতাংশ। প্রায় একই ঘটনা চীনাদের ব্যাপারে। অনেক বড় ব্যবসার কথা বাদ দিলে, সে ব্যবসা তো খুব বেশি নয়, খুব বেশি যেসব ব্যবসা, সেসব ক্রমে ক্রমেই দখল করে নিচ্ছে ভারতীয়রা-চীনারা। বড় বেতনের কাজে বসে যাচ্ছে ওরাই। শ্বেতাঙ্গ আমেরিকানরা তাদের স্থান হারাচ্ছে। রাষ্ট্রের যে সমর্থন ব্যবস্থা, তাতে উপকৃত হচ্ছে বাদামি কৃষ্ণকায়রা অধিকতর আকারে, তার ব্যয় বহন করছে প্রধানত শ্বেতাঙ্গ আমেরিকানরা। চোখের সামনে দেখা যাচ্ছে আমেরিকার জনস্রোত পাল্টে যাচ্ছে। বড় শহরে যাও, রাস্তার দিকে তাকাও, নিউ ইয়র্কে হোক বা ক্যালিফোর্নিয়ায় হোক, জনস্রোতের অদ্ভুত রং, কালোয়-বাদামিতে বৃহত্তর মেশামেশি, সাদার ছোপ কম। তাহলে সাদা আমেরিকার কী হবে? আমাদের দেশ কি আমাদের থাকবে না, আমাদের সুখ কি ভাগাভাগি করে অন্যরা নিয়ে নেবে, আমরা পড়ে থাকব দুঃখ নিয়ে? কেন থাকব, আমেরিকা আমাদের দেশ, আমাদের থাকবে, আমাদের কেক আমরা বানাব, আমরা কাটব, আমরা খাব, অন্যরা চেয়ে দেখুক কত সুন্দর কেক, কত আহামরি সে কেক খাওয়ার আয়োজন।

শুরু থেকেই জ্ঞাতসারে বা অজ্ঞাতসারে ডোনাল্ড ট্রাম্প সাদা আমেরিকার এই আকাঙ্ক্ষাকেই প্রবল করে তুলছেন। তিনি বলছেন, দেশে তিনি কাজ সৃষ্টি করতে সাহায্য করবেন, সে জন্য প্রচলিত সাশ্রয়বিরুদ্ধ করব্যবস্থাকে সাশ্রয়বান্ধব করে তুলবেন, তা তোলা যে সম্ভব, তা তিনি যুক্তি দিয়ে বোঝাতে চেষ্টা করছেন, তাই বলছেন যে কাজ আমেরিকার, কিন্তু বাইরে চলে যাচ্ছে, তাকে তিনি ফিরিয়ে আনবেন, এখানকার কাজ যদি বাইরে হতে পারে, এখানে হবে না কেন, কোথায় অসুবিধা, তা মিটিয়ে দিলেই তো হলো, অভিবাসী ঠেকাতে হবে, অবৈধ অভিবাসী হটাতে হবে, সব ঝামেলা মেটাও, পরিষ্কার করো, যাবতীয় ধুলাবালি পরিষ্কার করো, আমেরিকা মহান, তার মহত্ত্ব ফিরিয়ে আনতে হবে, আমেরিকান স্বপ্ন মহান, তাকে মহত্ত্বর করে তুলতে হবে। শ্বেতাঙ্গ আমেরিকা ট্রাম্পের এসব কথা বিশ্বাস করেছে। উগ্রবাদের বিরুদ্ধে তাঁর আপসহীন সংগ্রামের কথাও মানুষ বিশ্বাস করেছে। তিনি রাজনীতির মানুষ নন, তিনি এড়িয়ে যাবেন না, যা বলেন তা করেন—এমন একটা ধারণা। ট্রাম্পের সব অঙ্গীকারই শ্বেতাঙ্গ আমেরিকানদের একতাবদ্ধ হতে সাহায্য করেছে। রিপাবলিকান পার্টির লোকেরাও বুঝতে পারেনি মূল আমেরিকা ট্রাম্পের পেছনে এতটা একতাবদ্ধ। আমাদের আমেরিকা আমরা চাই, এই ভাবটি ট্রাম্পের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তুফানের মতো মনে মনে ছড়িয়ে গেছে। এরই নাম হোয়াইট ল্যাশ, এরই নাম হোয়াইট রেভল্যুশন।

পরিবর্তন তো মানুষ চায়, চাইতেই পারে। ওবামা দুই টার্ম চালালেন। পরিবর্তন তেমন একটা হয়নি। একটু অর্থনৈতিক উন্নতি যা হয়েছে, তা সবাই বলছেন, অর্থনীতির সাধারণ নিয়মেই হয়েছে, ওবামার ব্যবস্থার জন্য নয়। বরং ওবামা কেয়ার একটি বোঝা হয়ে চেপেছে রোজগারিদের ওপরে। হেলথ খাতে ট্যাক্স বাড়ছে, ওষুধের দাম বাড়ছে, মানুষ বিরক্ত। লাখ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে বৈধ করে নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, মানুষ বিরক্ত। আরো নতুন অভিবাসী নেওয়া হতে পারে মধ্যপ্রাচ্য থেকে, মানুষ শঙ্কিত। এই পটভূমিতে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প যখন নতুন করে আমেরিকাকে গড়ে তোলার আশ্বাস দেন, সাদা আমেরিকা ধরে নেয় সে তাদের আমেরিকা, হিলারির আমেরিকা সবার আমেরিকা, শুধু তাদের নয়। নারী নেতৃত্ব বলে হিলারি হেরে গেছেন, সে সত্য নয় বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। তিনি প্রচুর ভোট পেয়েছেন। তাঁর সম্পর্কে এফবিআই, উইকিলিকস যেসব তথ্য ফাঁস করেছিল তা সত্ত্বেও তিনি প্রচুর ভোট পেয়েছেন। তা জেতানোর মতো হয়নি নারী বলে নয়, ডেমোক্র্যাট বলে নয়, তিনি হোয়াইট ড্রিম জাগিয়ে তুলতে পারেননি বলে, যা তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না। তিনি অনেক বেশি ইনক্লুসিভ ছিলেন। হোয়াইট ড্রিম জেগে উঠতে প্রস্তুত ছিল, ট্রাম্পকে পেল অবলম্বন হিসেবে। সে থেকেই নামল হোয়াইট ড্রিম ও হোয়াইট ল্যাশ। তার ঘাড়ে চড়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভাবনীয় বিজয়। দেখা যাক এর পরে কী!

 লেখক : শিক্ষাবিদ



আজকের জনপ্রিয় খবরঃ

গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপ:

  1. বুখারী শরীফ Android App: Download করে প্রতিদিন ২টি হাদিস পড়ুন।
  2. পুলিশ ও RAB এর ফোন নম্বর অ্যাপটি ডাউনলোড করে আপনার ফোনে সংগ্রহ করে রাখুন।
  3. প্রতিদিন আজকের দিনের ইতিহাস পড়ুন Android App থেকে। Download করুন

Add Comment

Click here to post a comment