অপরাধ/দুর্নীতি আইন-আদালত গাজীপুর ঢাকা বিভাগীয় সংবাদ

কালীগঞ্জে এমপি পুত্র হত্যার প্রধান আসামী রিমনের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর: গাজীপুরের কালীগঞ্জে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত সাবেক এমপি প্রয়াত মোখলেছুর রহমান জিতু মিয়ার ছোট ছেলে ফয়সাল মিয়ার হত্যার প্রধান আসামী রিমনের বিরুদ্ধে কালীগঞ্জ থানায় একটি অস্ত্র মামলা (নং ৮) হয়েছে। রোববার বিকেলে র‌্যাপিট অ্যাকশন ব্যাটালিয়ানের (র‌্যাব-১) ওয়ারেন্ট অফিসার আবুবকর সিদ্দিক বাদী এ মামলা দায়ের করেন।

এতে কালীগঞ্জ পৌর এলাকার ভাদগাতী গ্রামের সাইদুল ইসলাম উরফে মোসলে উদ্দিন মাস্টারের ছেলে তৌহিদুল ইসলাম রিমনকে (২২) প্রধান করে দু’জনের বিরুদ্ধে মামলা করে ওই র‌্যাব কর্মকর্তা। মামলার অন্য আসামী হলো- পৌর এলাকার উত্তরগাঁও গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে আলমগীর হোসেন (২৫)।

ফয়সাল হত্যা মামলার প্রধান আসামী রিমনকে সোমবার দুপুরে গাজীপুর আদালতে প্রেরণ করা হয়। পরে বিকেলে হত্যাকান্ডের ব্যাপারে আদালতে ১৬৪ ধারায় রিমন জবানবন্ধি দেয়। জবানবন্ধির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কালীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মুজিবুর রহমান।

কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্গজ দত্ত অস্ত্র মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আপতত মামলার আসামী দুইজন। পরে তদন্তে আরো কারো নাম পেলে তা সম্পৃক্ত করা হবে। অবৈধ অস্ত্রের মালিককে আইনের আওতায় আনা হবে কিনা এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এখনো আমরা তাদের কাছ থেকে সম্পূর্ণ তথ্য পাইনি। আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে অবৈধ অস্ত্রের মালিককেও আইনের আওতায় আনা হবে।

উল্লেখ্য, গত মাসের ৩০ জুলাই দিবাগত আনুমানিক রাত ১০টায় পৌর এলাকার ভাদগাতী গ্রামে সন্ত্রাসী তৌহিদুল ইসলাম রিমন ও তার সহযোগীদের গুলিতে ফয়সাল নিহত হন। ঘটনার পর থেকে রিমন আত্মগোপনে চলে যায়। ১ আগষ্ট দিবাগত রাতে নিহতের বড় বোন মাসুমা সুলতানা মুক্তা বাদী হয়ে রিমনকে প্রধান করে ৬ জনের নামে ও অজ্ঞাত আরো ৩/৪ জনতে আসামী করে কালীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে সেই মামলায় গত শনিবার দুপুর ২টায় রিমনকে উত্তরগাঁও গ্রামের আলমগীরের দোকান থেকে ফয়সাল হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত পিস্তল, গুলি ও দেশীয় অস্ত্রসহ র‌্যাপিট অ্যাকশন ব্যাটালিয়ানের (র‌্যাব-১) সদস্যরা তাকে আটক করেন। রোববার গাজীপুর পোড়াবাড়ী র‌্যাব-১ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন শেষে কালীগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে রিমনকে হস্থান্তর করেন। এ সময় অস্ত্র উদ্ধারের ব্যাপারে র‌্যাব কর্মকর্তা আবুবকর সিদ্দিক বাদী হয়ে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই রিমন ও আলমগীরের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলা হয়।