অপরাধ/দুর্নীতি আইন-আদালত জাতীয়

কারাগারে কেমন আছেন আলোচিত কিশোরী ধর্ষণ ও মা-মেয়ের মাথা ন্যাড়া ঘটনার প্রধান আসামি তুফান?

গুড়ার বহুল আলোচিত কিশোরী ধর্ষণ ও মা-মেয়ের মাথা ন্যাড়া ঘটনার প্রধান আসামি শ্রমিক লীগ নেতা তুফান সরকারের কারাগারে দিন কাটছে ফুরফুরে মেজাজে। পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর রিমান্ডে ৯ দিন কেটেছে তুফানের। এরপর আদালত তাকে তার রিমান্ড নামঞ্জুুর করে কারাগারে পাঠায়।

কারা সূত্র জানিয়েছে, তুফান যে দিন কারাগারে গেছে সে দিনই তার নামে ২০ হাজার টাকা এবং পরে আরো ১০ হাজার টাকা জমা হয়েছে। এ টাকার বিনিময়ে সে কারা ক্যান্টিন থেকে খাবার ক্রয়সহ অন্যান্য খরচ বৈধভাবে করতে পারবে। তার সাথে স্থানীয় এক ব্যক্তি সাক্ষাৎ করলে তাকে তুফান বলেছে, ঈদুল আজহার আগে না হলে পরেই জামিনে বের হব। কাজেই কেউ যেন আমার চিন্তা না করে, আমি জেলে ভালো আছি।

মানসিক অস্বিস্তিতে মা মেয়ে : তুফান সরকার ও তার ক্যাডার বাহিনীর হাতে নির্যাতিত কিশোরী ও তার মাকে নিরাপত্তার কারণে রাজশাহী সেফহোম ও ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছে। মা ও মেয়ে দীর্ঘদিন বগুড়ায় একসাথে থাকায় এখন আলাদা স্থানে অবস্থানের কারণে অস্বস্তিতে পড়েছে মা-মেয়ে। তারা আবারো একসাথে থাকার জন্য আদালতে আবেদন করবেন বলে জানা গেছে।

এ দিকে বগুড়ায় জমিদখল, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসায়, জুয়া, হাউজি, নারী নির্যাতনসহ নানা অপরাধের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা গ্রহণে আওয়ামী লীগ হাইকমান্ডের নির্দেশের পর অনেকের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সবাই এখন হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছে।

সম্প্রতি বগুড়া শহর শ্রমিক লীগ আহ্বায়ক তুফান সরকার কর্তৃক এসএসসি পাস এক কিশোরী ধর্ষণ ও পরে মা-মেয়েকে মাথা ন্যাড়া করে দেয়ার ঘটনায় নিন্দার ঝড় ওঠে। এ পরিপ্রেক্ষিতে তুফান সরকারকে শ্রমিক লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়। এ ছাড়া তুফানের বড় ভাই যুবলীগ নেতা মতিন সরকারের বিরুদ্ধে তুফানকে প্রশ্রয়সহ নানা অপরাধের অভিযোগ ওঠায় তাকেও বগুড়া শহর যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদকের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর বগুড়ায় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ও প্রশাসনের সহযোগিতায় জমিদখল, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসায়, জুয়া, হাউজি ও নারী নির্যাতনসহ নানা অপরাধের সাথে জড়িত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে দলের হাইকমান্ডসহ দলের সর্বস্তরে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

এ পরিপ্রেক্ষিতে হাইকমান্ড থেকে বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মমতাজ উদ্দিনকে ঢাকায় তলব করা হয। তিনি গত সোমবার রাতে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সাথে রাজধানীর ধানমন্ডির সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে ওবায়দুল কাদের মমতাজ উদ্দিনকে দলের ক্ষতিকর ও বিপজ্জনক নেতাদের বিরুদ্ধে সাংগাঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। সে রাতেই এ খবর ছড়িয়ে পড়ে দলের সর্বস্তরে। কিন্তু বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কারো বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

তবে অপরাধের সাথে জড়িতরা সবাই বহিষ্কার আতঙ্কে রয়েছেন। এ তালিকায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিকলীগসহ বিভিন্ন অঙ্গদলের নেতারা রয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।