বিনোদন

এবার দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ নিয়ে যা বললেন শ্রাবন্তী

গত বছর বেশ ধুমধাম করেই দ্বিতীয়বারের মতো বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিলেন টালিউড অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়। কৃষাণ ব্রজ যাদবের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছিলেন তিনি। কিন্তু এবারেও সংসারটা টিকিয়ে রাখা গেল না। বিয়ে ও বিচ্ছেদের জন্য প্রায় এক বছর চলচ্চিত্র থেকে দূরে ছিলেন শ্রাবন্তী। সম্প্রতি নিজের বিচ্ছেদ ও আসন্ন চলচ্চিত্র নিয়ে শ্রাবন্তী কথা বলেছেন ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এই সময়ের সঙ্গে। সেখানেই নিজের বিচ্ছেদ ও আসন্ন চলচ্চিত্র নিয়ে বেশ খোলামেলাভাবেই কথা বলেছেন শ্রাবন্তী।

বিচ্ছেদ পরবর্তী জীবন এবং হতাশা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে শ্রাবন্তী বলেন, ‘আমি এখন ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছি না। কাজ আর ছেলের পড়াশোনা, এই নিয়ে ব্যস্ত। ঝিনুকের ক্লাস এইট হলো। ওর স্কুলে যেতে অসুবিধা হবে বলে বেহালা থেকে বাইপাসের ধারে বহুতল দালানে চলে এসেছি। আর হতাশ হয়ে নিজের ক্ষতি করতে পারব না। কারণ আমার ছেলে, বাবা-মা সবসময় আমায় আগলে রাখে। মাঝেমাঝে ভাবি এত ভালোবেসেও আমি ভালোবাসা পেলাম না। তাঁরপর ভাবি বাইরের লোকে যাই বলুক, আমি তো জানি কারো সঙ্গে কেন সংসার করতে পারিনি। বাইরের লোক কী বলল, তা নিয়ে আর ভাবি না।

বিচ্ছেদের পরবর্তী কষ্ট ও হতাশা নিয়ে শ্রাবন্তী আরো বলেন, আমি খুব আবেগ প্রবণ। সংসার করতে ভালোবাসি। কিন্তু এখন মনে হয়, শুধু বর থাকলেই সংসার হবে- এমন নয়। বাবা-মা, ছেলেকে নিয়েও সংসার হয়। প্রতিটা মেয়েই চায় সংসার করতে। কিন্তু আমার কপালে যা লেখা ছিল তাই হয়েছে। ভবিষ্যৎ কী রকম হবে জানি না। তবে আমি আগের থেকে পরিণত হয়েছি। দিদি, দিদির বন্ধুরা আছে। ওরা আমায় একাকীত্বে ভুগতে দেয় না। এখন কাজেও অনেক বেশি মন দিতে পারছি। মাঝে এক বছর কাজে অতটা মন দেইনি।

কার সিদ্ধান্তে দ্বিতীয়বারের বিচ্ছেদের পথ মাড়ালেন শ্রাবন্তী? এমন প্রশ্নের জবাবে শ্রাবন্তী বলেন, ‘দুজনে মিলেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রাক্তন স্বামীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগও নেই শ্রাবন্তীর। প্রাক্তন স্বামীকে শুভকামনা জানিয়ে শ্রাবন্তী বলেন, ‘আমি চাই, আমার সঙ্গে না হোক, কিন্তু সে যেন ভালো থাকে। এর আগে চলচ্চিত্র নির্মাতা রাজীব চক্রবর্তীর সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল শ্রাবন্তীর। সে ঘরে ঝিনুক নামের একটি পুত্র সন্তানের জন্ম হয়।

সম্প্রতি যিশু সেনগুপ্তের সঙ্গে ‘জিও পাগলা’ চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন শ্রাবন্তী। নিজের আসন্ন চলচ্চিত্র সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের অধিকাংশ মানুষ অন্য ধরনের ছবি বোঝে না। দেব-শ্রাবন্তী, জিৎ-শ্রাবন্তী কী করল সেটা দেখার জন্যই তাঁরা আপেক্ষা করেন। এখন আবার অপেক্ষা যিশু-শ্রাবন্তীর জন্য। আসলে বাণিজ্যিক ছবি করতে অনেক বেশি দক্ষতার প্রয়োজন হয়। আপনাকে নাচতে হবে। ভালো অভিনয় করতে হবে। আবার ন্যাকামোও করতে হবে। ‘জিও পাগলা’তে সবরকমই করেছি।

গুজব উঠেছে ‘জিও পাগলা’ চলচ্চিত্রের শুটিংয়ে নাকি যিশুর সঙ্গে চুটিয়ে প্রেম করছেন শ্রাবন্তী। অবশ্য এ গুজব হেসে উড়িয়ে দিয়ে শ্রাবন্তী বলেন, আমায় গাছ দিন। গাছের সঙ্গে রোমান্স করে নেব। এটাই তো আমাদের নায়িকাদের ক্ষমতা। অঙ্কুশের সঙ্গে যখন ছবি করেছি শুনেছি অঙ্কুশের সঙ্গে প্রেম। এবার যিশুদাকে নিয়ে শুনছি। কিন্তু যিশুদাকে কবে থেকে চিনি সেটা বলি। যখন আমি ক্লাস সিক্স সেভেনে পড়ি তখন থেকে। মাঝখানে আমরা ‘ডান্স বাংলা ডান্স’ করেছি একসঙ্গে। তবে নায়ক-নায়িকা হিসেবে প্রথমবার কাজ করলাম।