Advertisements
slider জাতীয়

এবারের ইলিশ আকারে বড়, দামও কম

ইলিশের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য সরকারের গৃহীত নানা কর্মসূচি অবশেষে সুফল দিতে সুফল করেছে। মাত্র এক দশক আগে দেশের মাত্র ২৭টি নদীতে ইলিশ পাওয়া গেলেও এখন ১২৫টি নদীতে রুপালি ইলিশ মিলছে। জানা গেছে, শ্রাবণের ভরা পূর্ণিমায় এবার জেলেদের জালে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। পাশাপাশি এগুলো আকারেও অন্যবারের চেয়ে বেশ বড়। এ রকম আরো কয়েক দফা ধরা পড়বে বলে আশা করছেন মৎস্য কর্মকর্তারা।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, বন্দরনগরী চট্টগ্রামের পাথরঘাটা ফিশারিঘাটেও বেড়েছে ইলিশের সরবরাহ। ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ায় ইলিশের বাজারও বর্তমানে পড়তির দিকে। গত তিন দিনের ব্যবধানে পাইকারি বাজারে আকারভেদে ইলিশের দাম মণপ্রতি কমেছে তিন থেকে ছয় হাজার টাকা। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইলিশ ধরা নিয়ে মৎস্য অধিদপ্তর কড়াকড়ি আরোপের কারণে ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে।

ফিশারিঘাটের আড়তদার শামসুল আলম বলেন, তিন দিন ধরে বাজারে ইলিশের সরবরাহ বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। স্বাভাবিকভাবে তাই দাম কমেছে। বর্তমানে বড় সাইজের ইলিশ মণপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ২২ হাজার টাকায়। তিন দিন আগেও তা ছিল ২৮ হাজার টাকা। এছাড়া মাঝারি সাইজের ইলিশ মণপ্রতি পাঁচ হাজার কমে এখন বিক্রি হচ্ছে ১৭ হাজার টাকায়। অন্যদিকে ছোট সাইজের দাম কমেছে মণে তিন হাজার টাকা। এখন বিক্রি হচ্ছে ১২ হাজার দরে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দাম আরো কমতে পারে বলে জানান তিনি।

সামুদ্রিক মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ১০ বছর আগে দেশের মাত্র ২১টি উপজেলার নদীতে ইলিশ পাওয়া যেত। এখন ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে ১২৫টি উপজেলার নদীতে। জাটকা নিধন প্রতিরোধ কর্মসূচির শুরুতে চট্টগ্রামে একটি জেলে পরিবারকে প্রতি মাসে দেওয়া হয়েছিল ১০ কেজি চাল। কিন্তু এখন চাল দেয়া হচ্ছে ৪০ কেজি করে। জাটকাবিরোধী অভিযান আগে বিক্ষিপ্তভাবে অভিযান পরিচালিত হলেও এখন সমন্বিতভাবে বিভিন্ন সংস্থা দায়িত্ব পালন করছে। জব্দ জাল পোড়ানো হচ্ছে সঙ্গে সঙ্গে। এতে ইলিশের ব্যাপারে জনসচেতনতা বেড়েছে।

গত ১১ জুলাই চট্টগ্রামে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হক বলেন, বর্তমানে ৬৭ হাজার ফিশিংবোট মাছ ধরায় নিয়োজিত আছে। প্রজনন সময়ে আহরণ বন্ধ রাখলে সারা বছরই মাছ পাওয়া যাবে।

বিবার্তার মীরসরাই প্রতিনিধি জানান, শ্রাবণের ভরা পূর্ণিমায় উপকূলীয় মীরসরাইয়ের জেলেদের জালে ধরা পড়ল ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। অবশেষে তাদের অপেক্ষার প্রহর শেষ হলো। সারা দেশের পাশাপাশি এখানকার বাজারেও দেখা মিলল বড় বড় সাইজের ইলিশ। তবে এখানে দাম চড়া।

মীরসরাইয়ের সাহেরখালী ইলিশঘাটের জেলে পরিমল জলদাস জানান, জ্যৈষ্ঠ ও আষাঢ় মাস ধরে আমরা হতাশ ছিলাম। পুরো মৌসুমে জাল–নৌকা নিয়ে নদীতে গেছি। নামমাত্র ইলিশ নিয়ে ফিরেছি। কিন্ত গত কয়েক দিন ধরে আমরা ঝাঁকে ঝাঁকে মাঝারি ও বড় ইলিশ পেয়েছি।

মীরসরাই বাজারের ক্রেতা ইমতিয়াজ ইকরাম বলেন, বড় সাইজের একটা ইলিশ হাজার টাকার নিচে মিলছে না। এক কেজি হলেই হাজার টাকা। একটু ছোট হলে ৬শ থেকে ৭শ টাকা। আর ছোট হলে ৪শ টাকা।

মীরসরাইয়ের মৎস্য সম্পদ কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান বলেন, শ্রাবণের ভরা পূর্ণিমা থেকে আরো কয়েক দফা ভালো ইলিশ পাওয়া যাবে আশা করা যাচ্ছে। তিনি বলেন, মা ইলিশ সুরক্ষা ও ডিম ছাড়ার পরিবেশ সৃষ্টি করায় এখন আগের চেয়ে বড় সাইজের ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে।

এদিকে দেশে ইলিশের সবচেয়ে বড় হাট চাঁদপুর বড়স্টেশন মাছঘাটের আড়তগুলোতে দেশের সমুদ্র এলাকাসহ দক্ষিণাঞ্চল থেকে ইলিশের আমদানি প্রতিদিনই বাড়ছে। প্রতিদিন ৭০০ থেকে ৮০০ মণ ইলিশ আসছে এখানে। যা বিক্রি হচ্ছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়। তাজা ইলিশ কিনতে ক্রেতারাও ভিড় করছেন। তবে চাঁদপুর ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের পদ্মা–মেঘনা তথা মিষ্টি পানির মাছ কম আসছে বলে জানান মাছ ব্যবসায়ীরা।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০০২-০৩ অর্থবছরে দেশে উৎপাদিত ইলিশের পরিমাণ ছিল এক লাখ ৩৩ হাজার মেট্রিক টন। ২০১৫-১৬ অর্থবছর ইলিশের উৎপাদন ছিল চার লাখ ২৭ হাজার মেট্রিক টন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্বের মোট ইলিশের ৬০ ভাগই উৎপাদিত হয় বাংলাদেশে। দেশের নদনদীতে ধরা পড়া মাছের ১২ শতাংশই ইলিশ। জিডিপিতে এর অবদান এক শতাংশ। এক মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় নদীর পরিবেশ, জাটকা সংরক্ষণ ও অভয়াশ্রম নিশ্চিত করতে পারলে বছরে ইলিশের বাণিজ্য হত কমপক্ষে ২৫ হাজার কোটি টাকা। এবার সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা যায়।

Advertisements