জাতীয়

‘এক সিমে স্ত্রী, অপর সিমে অর্চনার সঙ্গে কথা বলতেন মজহার’

কবি, প্রাবন্ধিক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার ফরহাদ মজহারের মোবাইলে দুইটি সিম ছিল। তার মধ্যে একটি সিম দিয়ে তিনি স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। অপর সিমে অর্চনা নামের ওই নারীর সঙ্গে কথা বলতেন।  বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ সদর দফতরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান  পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহীদুল হক।

তিনি বলেন, অপহরণের অভিযোগ উঠার পর থেকে ফরহাদ মজহারকে উদ্ধার করা পর্যন্ত ১৮/১৯ ঘণ্টায় মজহার তার স্ত্রীর সঙ্গে অন্তত ১০ বার কথা বলেছেন। একই সময়ে ৬ বার কথা বলেছেন অপর্ণা নামের ওই নারীর সঙ্গে। ওই নাম্বারে তিনি একটি ক্ষুদেবার্তাও পাঠিয়েছেন।

আইজিপি শহীদুল হক আরো বলেন, সঙ্গত কারণেই তদন্ত কর্মকর্তা ওই নাম্বার ব্যবহারকারীর সন্ধান করেন। পরে তদন্তে জানা যায় অপর্ণা নামের ওই নারী রাজধানীর ভাটারায় থাকেন। এরপর তিনি চট্টগ্রাম চলে যান। ওই নারী ফরহাদ মজহারের এনজিওতে চাকরি করতেন।

আইজিপি আরো বলেন, অপহরণ ঘটনার আগের দিনও ওই নারীর সঙ্গে ফরহাদ মজহার মোবাইল ফোনে কথা বলেছেন। কথা বলার পর ফরহাদ মজহার অনেকটা উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন। ঘটনার আগে পরে যেহেতু ওই নারীর প্রসঙ্গ ছিল, সেহেতু তার বক্তব্য নেওয়াও পুলিশের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। ওই নারী ইতোমধ্যে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

আইজিপি বলেন, ফরহাদ মজহার খুলনায় পৌঁছানোর পর রকেট সার্ভিসের মাধ্যমে একবার ১৩ হাজার ও আরেকবার ২ হাজার টাকা ওই নারীর জন্য পাঠিয়েছেন।

বড় ডাক্তারের মাধ্যমে গর্ভপাতের আশ্বাস দেন মজহার

অপর্ণা নামের ওই নারী ফরহাদ মজহারের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা উবিনীগে কর্মরত থাকা অবস্থায়ই তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা পরবর্তীতে শারীরিক সম্পর্কে রূপ নেয় বলেও দাবি করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক।

তিনি জানান, বিষয়টি ফরহাদ মজহারের স্ত্রী জানার পর অপর্ণার চাকরি চলে যায়। কিন্তু এরপরও তাদের মধ্যে সম্পর্ক বিদ্যমান ছিল। এক পর্যায়ে ওই মহিলা গর্ভবতী হন। পরে ফরহাদ মজহারের সহযোগিতায় তিনি গর্ভপাত করান।

আইজিপি বলেন, এবার আবারো গর্ভবতী হয়ে পড়লে ওই মহিলা তা ফরহাদ মজহারকে জানান। এতে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় তিনি বিমর্ষ হয়ে পড়েন। তিনি তাকে আবারো বড় ডাক্তারের মাধ্যমে গর্ভপাত করানোর আশ্বাস দেন। তারপর থেকে তিনি কীভাবে কি করেছেন, তা সহজেই বোঝা যায়।

সরকারকে বিব্রত করাই ছিল উদ্দেশ্য

অপহরণের নাটক সাজানোর পেছনে কি উদ্দেশ্য থাকতে পারে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে পুলিশের মহাপরিদর্শক বলেন, ফরহাদ মজহারকে অপহরণের অভিযোগ উঠার পরই একটি মহল সরকার, প্রধানমন্ত্রী এবং প্রতিবেশী একটি দেশের বিরুদ্ধে নানা ধরণের বক্তব্য দিতে শুরু করেন। ওই ঘটনার পরই লন্ডনে একটি দল মানববন্ধন করে তাকে অপহরণের মিথ্যা অভিযোগ তোলে। আমরা মনে করেছি তদন্তের পরেই এ বিষয়ে জনগণকে জানানো উচিত।তাই আমরা আমরা শতভাগ স্বচ্ছতা নিয়ে এ ঘটনার তদন্ত শুরু করি।

আইজিপি আরো বলেন, পুলিশের তদন্তের পর আমার কাছে মনে হয়েছে সরকারকে বিব্রত করার জন্য এবং কিছু টাকা নিজের জিম্মায় নেওয়ার জন্যই ‘অপহরণ নাটক’ সাজানো হয়েছে।

সুযোগ থাকলে মজহারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

ফরহাদ মজহার যদি মিথ্যাচার করে থাকেন তাহলে তার বিরুদ্ধে  কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা এমন প্রশ্নে আইজিপি বলেন, ‘এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায় কিনা আমরা তা খতিয়ে দেখছি। কোনো প্রকার আইনি কার্যক্রম শুরু করার সুযোগ থাকলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্বেচ্ছায় বাসে করে খুলনা যান মজহার

আইজিপি বলেন, ফরহাদ মজহার অপহৃত হন নি, তিনি স্বেচ্ছায় খুলনা গিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন তাকে একটি মাইক্রোবাসে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয় এবং রাতে অপহরণকারীরা তাকে ছেড়ে দিয়ে বাসের টিকিট কিনে দেন।

কিন্তু তদন্তে আমরা জানতে পারি ফরহাদ মজহার নিজেই গফুর নামে বাসের টিকিট কাটেন। তিনি তিন ঘন্টা খুলনার নিউ মার্কেটে অবস্থান করেন। রেস্টুরেন্টে খাওয়া দাওয়া করেন।

ফরহাদ মজহারকে অপহরণ করা না হলে তিনি কিভাবে খুলনা গিয়েছিলেন এমন প্রশ্নে শহীদুল হক বলেন, আমি বিশ্বাস করি উনি বাসে করেই খুলনায় গিয়েছিলেন। কারণ তার অপহরণের খবর পাওয়ার পরই পুলিশ তাকে উদ্ধারে তৎপর হয়ে ওঠে। মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং করে তার অবস্থান জানার পর প্রত্যেকটি জেলায় চেকপোস্ট বসানো হয়। সব মাইক্রোবাস চেক করা হয়। তিনি বাসে না গেলে অবশ্যই চেকপোস্টে ধরা পড়তেন।