বিনোদন মতামত/বিশেষ লেখা/সাক্ষাৎকার লাইফ স্টাইল

একটা মেয়ে কি এই রকম আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলতে পারে দেখ আমি ওর সাথে

দা দীন শো হোস্টঃ আমাদের বলুন, নারী এবং পুরুষ, ছেলে এবং মেয়ে কি বন্ধু হতে পারে? একটা মেয়ে কি এই রকম আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলতে পারে দেখ আমি ওর সাথে শুধু ঘুরতে যাচ্ছি এবং অন্য মেয়েরা আমাকে নিয়ে ঈর্ষান্বিত। শুধু শুধু ওরা ভুল কথা বলে। জানো ও আমার সাথে হাঁটবে। ও আমার সাথে খুবই ভালো আচরণ করে, ও আমার আসলে প্রশংসা ও করে, ও সবসময় আমাকে খুব মিষ্টি করে কথা বলে, ও আসলে খুবই ভালো জানো। আমি ওর সাথে কিছুই করবো না; আমরা শুধু একসাথে ঘোরাঘুরি করবো। এটা কি সম্ভব?

নুমান আলী খানঃ এটা হতে পারে না, এটা হচ্ছে তো অবশ্যই। এবং এটা হওয়া উচিৎ নয় তাও সত্যি।

দা দীন শো হোস্টঃ কিন্তু ওরা বলছে ওরা শুধুই বন্ধু। ওরা বন্ধুই থাকবে। ছেলে এবং মেয়ে কি শুধু বন্ধু হতে পারে?

নুমান আলী খানঃ না। ছেলেরা সেটা খুব ভালো করে জানে। তারা স্বীকার করবে না কিন্তু তারা এটা খুব ভালোভাবে জানে। কখনো কখনো মেয়েরা জানে না এবং এটাই আমাকে আমার বোনদের, মেয়েদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় ফেলে যে তারা অনেক সময় পুরুষদের এই পরিকল্পিত ফাঁদটা বুঝতে পারে না।

দা দীন শো হোস্টঃ পুরুষদের পরিকল্পিত ফাঁদ?

নুমান আলী খানঃ হ্যাঁ। তো আমরা দেখা করছি কারণ জানেন তো আমরা ল্যাব পার্টনার অথবা আমরা স্কুলের প্রজেক্ট নিয়ে আলোচনা করছি, MSA, সম্মেলন, আমরা ইসলাম নিয়ে আলোচনা করছি এবং এইসব বোনেরা অনেক সময় এসবের আড়ালের পুরোটা দেখতে পান না এবং আমাদের বোনদের মধ্যে আসলে সচেতনতার এবং সাবধানতার মাত্রা বাড়াতে হবে। যাতে তারা…আপনাকে পুরুষদের সাথে মতবিনিময় করতে হবে, এটা হবেই, ব্যবসা ক্ষেত্রে, স্কুলে, কর্ম ক্ষেত্রে এটা হবেই। আপনার মতবিনিময় হবেি কিন্তু কিছু গাইডলাইন আপনাকে মানতে হবে যাতে তা অস্বাস্থ্যকর না হয়ে স্বাস্থ্যকর হয়। আমি আসলে ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি আমাদের ভাই এবং বোনদের মধ্যে নিয়ন্ত্রিত মতবিনিময় হোক, বিশেষ করে কম বয়সী ছেলে মেয়েদের মধ্যে, এমনভাবে তারা বড়দের থেকে গাইড পাক যেন তারা জানে কিভাবে সম্মানজনক ভাবে একে অন্যের সাথে ব্যাবহার করতে হয়, কারণ আপনি জানেন এই সমাজে আমরা যদি চেষ্টা করি।

উদাহরণস্বরূপ, আমি যদি আমার মেয়েকে পুরো আলাদা রাখি যাতে তারা অন্য কারো সাথে কথাও না বলতে পারে, একটা সময় আসবে যখন তারা কলেজে যাবে, কর্মক্ষেত্রে যাবে অথবা এয়ারপোর্টে যাবে বা ঘুরতে যাবে, বা এটা সেটা তো তখন অন্য মানুষ থাকবে ওদের আশেপাশে। আমি চাইনা বাইরের পৃথিবী দেখে ওরা আঁতকে উঠুক। জানেন নিশ্চয়ই, বাচ্চাদেরকে বোতলে ভরে রাখলেই তাদেরকে রক্ষা করা যাবে না কিন্তু একই সময়ে তাদেরকে পুরো এই বলে ছেড়ে দেয়া যে, তুমি যা ইচ্ছা কর – এটাও পাগলামি। আমাদেরকে ভাই এবং বোনদের মধ্যে নিয়ন্ত্রিত মতবিনিময় -এর একটা উপায় খুঁজে বের করতে হবে, বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে।

তারা যদি একে অন্যের সাথে সম্মানজনক ভাবে কথা বলে ঠিক আছে, ছেলেরা জানে কোথায় তাদের তাকাতে হবে এবং কিভাবে শুধু কাজের কথায় আলোচনা সীমিত রাখতে হবে এবং কখন তারা সীমা অতিক্রম করছে বুঝতে পারে এবং বড়দের উচিৎ গাইড করার জন্য সেখানে থাকা। অনেক সময় কম বয়সীদের ক্ষেত্রে এমনকি ধর্মীয় পরিমণ্ডলেও কোন বয়স্ক মানুষ আলোচনাকে নিয়ন্ত্রণের জন্য বা তাদের একে অন্যের সাথে ব্যাবহার গাইড করার জন্য থাকেন না। ধরেন Youth Group আছে এবং ছেলেরা এবং মেয়েরা সব কম বয়সী, সবাই নিজেদের কাজ করছে কারণ তরুণদেরকেই নেতৃত্ব দিতে হবে। হ্যাঁ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তোমরা অসাধারণ কিন্তু কিছু কিছু ব্যাপারে তোমরা নির্বোধ এবং তোমাদের সেসব ক্ষেত্রে বয়স্ক মানুষ এবং অন্য মানুষের উপস্থিতি দরকার। এসব অপ্রয়োজনীয় নারী এবং পুরুষের মেলামেশা, এসব কোথায় হয় জানেন? এসব হয় যেখানে নারী পুরুষ একসাথে প্রচুর সময় কাটায়। তো আপনি কলেজে যাচ্ছেন কিছু মানুষের সাথে, কাজে যাচ্ছেন কিছু মানুষের সাথে এবং আপনি জানেন লাঞ্চের সময় হয়, সবাই একসাথে হয় এবং এটা সেটা এবং এটা প্রতিদিন হচ্ছে, এতে কী হয়? এতে শয়তান হয়তো আপনাকে একবারে পুরো বিচ্যুত করতে পারছে না কিন্তু ১% করে করে আপনার বিচ্যুতি ঘটায় যতক্ষণ পর্যন্ত না কোন বড় ধরণের কোন সমস্যা হয়।

এই তো সেদিন আমি একটা ফোন কল পেলাম, খুবই টিপিক্যাল একটা কল; সাধারণত আমি এধরণের কল ধরি না কিন্তু আমি বোধহয় কোন খারাপ মুডে ছিলাম তাই ধরেছিলাম। তো একটা ছেলে ফোন করেছে আমাকে এবং বললো আমি অমুক কলেজে পড়ছি এবং এই মেয়েটা আমি যেসব ক্লাস করি সব ক্লাস করে। আমি খুবই নিশ্চিত যে ব্যাপারটা উল্টো কিন্তু যাই হোক ভালো যে সে এভাবে বলছে। তো মেয়েটা ঐসব ক্লাস করে যা আমি করি। আচ্ছা, হুম। আর জানেন আমরা ক্লাস, কাজ এবং আমাদের ক্যারিয়ার নিয়ে আলোচনা করি কারণ মেয়েটিও একই বিষয়ে মেজর করছে যেটাতে আমি করছি। হুম এবং আমি মেয়েটির সাথে কথা বলছি ক’বছর ধরে এবং আমরা কোন খারাপ কিছু করিনি। আমি মনে মনে বলছি হ্যাঁ, আলবৎ তুমি কিছু করনি,
এবং এরপর ছেলেটা বললো, জানেন মেয়েটা আমাকে সেদিন বললো সে একটি প্রস্তাব পেয়েছে এবং সেটা সে বিবেচনা করছে, শুনে আমার মনটা দমে গেলো এবং আমি বুঝতে পারছি না আমি কি করবো। আমার কি করা উচিৎ? এবং এই ছেলেটা গভীর শকে আছে যে এই মেয়েটা একটা প্রস্তাব পেয়েছে। তুমি কি মেয়েটাকে প্রস্তাব দিয়েছিলে? ছেলেটা বলল, না। আমরা শুধু বন্ধু ছিলাম। ও একটি প্রস্তাব পেয়েছে এটা বলার আগ পর্যন্ত আমি টেরই পাইনি আমরা আসলে বন্ধুর চেয়েও বেশি কিছু ছিলাম।

দা দীন শো হোস্টঃ তো সে মনে মনে তার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ছে।

নওমান আলী খানঃ হ্যাঁ এবং আমি বললাম, তুমি কী করতে চাও? তুমি মেয়েটাকে বিয়ে করতে চাও? তাহলে মেয়েটার বাবা-মায়ের সাথে কথা বল। কিন্তু অন্য একটা প্রস্তাব আছেই এবং আমার মনে হয় মেয়েটা ছেলেটাকে পছন্দ করে বা এরকম কিছু এবং আমি আর বেঁচে থাকার কোন মানে দেখছি না। তো আমি বললাম তাহলে তুমি প্রথমে একটা কাজ করতে পারো, তোমার বাবা-মায়ের কাছে যাও এবং তাদেরকে বল। ছেলেটা ছিলো ২১ বা ২২ বছর বয়সী এবং আমি ওকে বললাম তোমার বাবা-মায়ের কাছে গিয়ে বল। এবং ও বলল, না! আমি পারবো না! তারা আমাকে মেরেই ফেলবে!! এবং এরপর আমি বললাম, আচ্ছা, তুমি মেয়েটিকে ছাড়া বাঁচবে না, তুমি তোমার বাবা-মায়ের কাছে গিয়ে বলতে পারবে না তুমি মেয়েটির সাথে এতো সময় কেন কাটিয়েছ?

আমি শুধু ওকে পছন্দ করতাম। মেয়েটি ছিলো খাঁটি বন্ধু। ও আমার কথা শুনতো…এইসব।

দেখ তুমি যদি এরকম ঘুরপাক খাও… তুমি কি জানতে তুমি যা করছিলে ধর্মীয়ভাবে সেটা নিষিদ্ধ ছিল? মেয়েটির সাথে বাইরে যাওয়া, বসা এবং McDonald’s-এর ফ্রাই খাওয়া ভুল ছিলো। তুমি জানতে না জানতে না?

হ্যাঁ।

তো এখন তুমি বুঝতে পারছ আল্লাহ্‌ কেন এসব করতে নিষেধ করেছেন। আখিরাতে এর পরিণাম ভোগ করতে হবে কিন্তু আবেগীয় দিক থেকে মানুষের মন ক্ষত হয়ে যায়। মানুষ খুবই এলোমেলো হয়ে যায় এবং তারা বুঝতে পারে না তাদেরকে এজন্য কী মূল্য দিতে হয় আবেগের দিক থেকে এই পৃথিবীতেই।
আমি তো বলবো, এইসব মানুষরা যাদেরকে পরবর্তীতে বিয়ে করে এটা তাদের জন্য ও ফেয়ার না কারণ তারা যাকে বিয়ে করে বিশুদ্ধ আবেগীয় দিক থেকে তারা সে মানুষটার প্রতি আকৃষ্ট থাকে না। তাদের মন থাকে অন্য খানে এবং তারা আগের অন্য মানুষটির কথা ভাবতে থাকে এবং এটা যাকে বিয়ে করা হয় তার প্রতি অন্যায়, এমন কি শুধু ইমোশনাল জায়গা থেকেই এটা অন্যায় জানেন। এবং এইযে ডেট করা, কারো সাথে মেলামেশার সংস্কৃতি, এরপর তাকে চেড়ে অন্যজনের সাথে ডেট করা; এতে আপনি শুধু অন্য মানুষের অনুভূতির ব্যাপারে অসহিষ্ণু হয়ে উঠতে শেখেন এবং শেষমেশ আপনি হয়ে যান কাস্টমারের মত এবং নিজের জন্য খুঁজতে থাকেন। প্রথম যখন একটা ছেলে প্রত্যাখ্যাত হয় সে বিষণ্ণ থাকে, পরের বার ছেলেটি ভাবে এইবার ছ্যাঁকাটা আমি দিবো। তো ছেলেটা তখন নিজেকে বলে আমি নিজেকে আর দুঃখ পেতে দেবো না, এরচেয়ে আমি বরং ধরবো আর ছাড়বো এবং সে ক্রমাগত অমানুষ হয়ে ওঠে এবং এরফলে আপনি একটা পরিবার পাওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে কারণ পরিবারের মূলে আছে ভালোবাসা, হৃদ্যতা, ভদ্রতা এবং অন্যের জন্য ভাবা। আপনি আবেগীয় দিক থেকে দেউলিয়া হয়ে যান এইসব তুচ্ছ, অগভীর সম্পর্কগুলোর কারণে।

দা দীন শো হোস্টঃ অবশ্যই। আপনি কি “এখনো মুসলিম না হওয়া” ওদের ঐ ভিডিওটি দেখেছিলেন এবং আমরা বলছি “এখনো মুসলিম না হওয়া” কারণ প্রত্যেকেই একক সৃষ্টিকর্তায় সমর্পণের সম্ভাবনা রাখে তাঁর সৃষ্টির প্রতি নয় এবং মুসলিম এরাই। তো তারা একটি ভিডিও করেছে কলেজ ক্যাম্পাসে এবং বিষয় ছিলো, ছেলে এবং মেয়ে কি বন্ধু হতে পারে। আপনি কী ভিডিওটি দেখার সুযোগ পেয়েছিলেন?

নুমান আলী খানঃ না। আমি ওটা দেখিনি।

দা দীন শো হোস্টঃ ওরা ইন্টারভিউ করছিলো এবং বলছিলো, আচ্ছা তোমার কি মনে হয় তুমি, ছেলেদেরকে প্রশ্ন করছিলো যে, তোমরা কি মেয়েদের শুধু বন্ধু হতে পারো এবং সবশেষে উত্তরটা ছিলো না এবং ভিডিওটা ছিলো খুবই ইন্টারেস্টিং। যাতে অন্যরা বুঝতে পারে এটা আমাদের দৃষ্টিকোণ থেকে আসছে না, এটাই হচ্ছে অত্যন্ত সত্যি কথা।

নুমান আলী খানঃ হ্যাঁ, ঠিক। (সংগৃহীত তথ্য)