খেলা-ধুলা

এই বয়সে ও ফুটবল মাঠ কাঁপালেন ম্যারাডোনা-ইনফান্তিনোরা

দারুণ এক দৃশ্য। মাঠে ফুটবল লড়াইয়ে দিয়েগো ম্যারাডোনা, আলেজান্দ্রো দেল পিয়েরো, জেনারো গাত্তুসো, ক্লারেন্স সিডর্ফ ও রোনালদোর মতো কিংবদন্তি ফুটবলাররা। এই কিংবদন্তিদের সঙ্গে বল দখলের লড়াই করছেন ফিফার প্রেসিডেন্ট জিয়ান্তি ইনফান্তিনো। প্রতিপক্ষের জালে বল জড়ানোর জন্য মাঠ কাঁপাচ্ছেন এইসব ‘বুড়ো’ কিংবদন্তিরা। এমন অভাবনীয় দৃশ্য সত্যি সত্যি দেখা গেলো সুইজারল্যান্ডের শহরে ব্রিজে।

ফিফার বর্তমান প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর জন্ম শহর এটি। বিশ্ব ফুটবল নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছেন ১৮ মাস হলো। এরই মধ্যে তিনি এক ব্যতিক্রমী ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করেন। সাবেক তারকা ফুটবলারদের নিয়ে নিজ শহরে প্রীতি ম্যাচের আয়োজন করেন। শুক্রবারের ওই

প্রীতি ম্যাচ খেলতে ব্রিজ শহরে একত্রিত হন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নামিদামি ৫২ জন সাবেক ফুটবলার। বর্তমানের মধ্যে জুভেন্টাসের ইতালিয়ান গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি বুফনও খেলেন তাদের সঙ্গে। ইতালি, সুইজারল্যান্ড ও বিশ্ব একাদশ নামে তিনটি ভিন্ন দল গঠন করা হয়। ফিফা প্রেসিডেন্ট ইনফান্তিনোর নামছিল তিন দলেই। তিন দলের হয়েই একটু একটু খেলেন তিনি।

সাবেক তারকাদের খেলা দেখতে স্টেডিয়ামে দর্শকদের ছিল সরব উপস্থিতি। প্রিয় তারকাদের খেলা দেখতে তাদের একটু ছুঁয়ে দেয়ার জন্য দর্শকরা ছিল উদগ্রীব। আর্জেন্টিাইন কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার দিকে দর্শকদের আগ্রহ ছিল সবচেয়ে বেশি। এদিন দর্শকদের হতাশ করেননি তিনি। সেই কবে ফুটবল থেকে অবসর নিয়েছেন তিনি। অনেকটা মুটিয়ে গেছেন। বয়স বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬ বছর। কিন্তু এই বয়সেও স্থল শরীর নিয়ে পায়ে বেশ জাদু দেখান। সত্যিকারের প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলার মতো আবেগ দেখা যায় তারমধ্যে।

নিজ দলের ‘বুড়ো’ খেলোয়াড়দের ভুলে কখনো কখনো রেগে উঠতে দেখা যায় তাকে। ১৯৮৬ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপের শিরোপা এনে দেয়া ম্যারাডোনা এদিন প্রতিপক্ষের গোলমুখে বেশ কয়েকবার আক্রমণ হানেন। অন্যদিকে ম্যাচের সময় মাঠে উপস্থিত ছিলেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার রোনালদোও। কিন্তু তিনি এদিন মাঠে নামেননি। তবে ম্যারাডোনার মতো তার দিকেও দর্শকদের আগ্রহ ছিল প্রবল। ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পরিবারের সদস্যরা মাঠে বসে খেলা দেখেন। তার বৃদ্ধা মাও মাঠে বসে খেলা দেখেন।