বিনোদন

এই প্রবীণ অভিনেত্রীর ছেলেও জনপ্রিয় অভিনেতা, জানেন তাঁর ছেলে কে?

আশির দশকের আগেই অভিনয়ে আসা। বাংলা ছবি ও টেলিভিশনের এই জনপ্রিয় প্রবীণ অভিনেত্রী এখন পটেশ্বরীর ঠাকুমা। কিন্তু বাস্তবে ওঁর ছেলেও একজন জনপ্রিয় অভিনেতা। জেনে নিন তাঁর কথা।

নব্বইয়ের দশকের বাংলার শিশু-কিশোররা প্রায় সবাই সবাই অনন্যা চট্টোপাধ্যায়কে বড়পর্দায় এবং ছোটপর্দায় দেখে বড় হয়েছেন। এই প্রবীণ অভিনেত্রী ‘পটলকুমার গানওয়ালা’-তে সুজনকুমারের মা অর্থাৎ পটেশ্বরীর ঠাকুমা কিন্তু অনেকেই জানেন না, তাঁর নিজের ছেলেও একজন জনপ্রিয় অভিনেতা। শুধু তাই নয়, সেই অভিনেতার টেলিভিশন ডেবিউ ঘটেছিল তাঁর মায়ের সঙ্গেই। বেশ কয়েক বছর আগের কথা, টেলিভিশনে স্বামী বিবেকানন্দকে নিয়ে একটি ধারাবাহিকে স্বামীজির খুড়িমার চরিত্রে অভিনয় করছিলেন অনন্যা চট্টোপাধ্যায়।

ছেলেকে পাঠিয়েছিলেন চিত্রনাট্য সংগ্রহের জন্য কিন্তু ওঁর ছেলেকে দেখেই পছন্দ হয়ে যায় পরিচালকের। তার পরেই কিশোর বিবেকানন্দের চরিত্রের জন্য মনোনীত করা হয় অনন্যা চট্টোপাধ্যায়ের ছেলে দেবাঞ্জন চট্টোপাধ্যায়কে। সেটাই ছিল তাঁর অভিনয় জীবনের সূত্রপাত এবং এই মুহূর্তে এই চরিত্রটিই তাঁর জনপ্রিয়তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ছবি: দেবাঞ্জনের ফেসবুক পেজ থেকে

আকাশ ৮-এর ‘জগজ্জননী মা সারদা’ ধারাবাহিকের স্বামীজি চরিত্রের অভিনেতা দেবাঞ্জনই আসলে অনন্যা চট্টোপাধ্যায়ের ছেলে। ‘‘আমার সঙ্গেই ওর প্রথম কাজ। পরে শুনেছিলাম ও নাকি আমার সঙ্গে কাজ করতে প্রচণ্ড ভয় পেয়েছিল আর তখন থেকেই ওর মধ্যে স্বামীজি সম্পর্কে একটা বিশেষ ভক্তি তৈরি হয় যা এখনও রয়েছে’’, জানালেন অনন্যা। তাঁর নিজেরও অনেক ছোট বয়সে অভিনয় জগতে আসা। ১৯৭৮ সালে, ‘চারমূর্তি’ প্রথম ছবি এবং তার পরেই ‘সংসারের ইতিকথা’।

বলতে গেলে এই ছবির পরেই অভিনয় জীবনের সাময়িক ইতি ঘটে। ‘‘আমার মা একেবারেই চাইতেন না আমি অভিনয় করি’’, বললেন অনন্যা চট্টোপাধ্যায়, ‘‘আমি বেশ অনেকটা সময় গান, পড়াশোনা এই নিয়েই ব্যস্ত ছিলাম। ১৯৮৬ সাল থেকে নিয়মিত রেডিওতে গান গাইতাম। আসলে গান আমার প্রথম ভালবাসা বলতে পারো। এর মধ্যেই আমার স্বামী ইন্দ্রনীল চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলাপ। একসঙ্গে থিয়েটার করতাম, আমাদের দল ‘কাঁচড়াপাড়া ফিনিক্স’-এ।’’

মা-কে নিয়ে দেবাঞ্জনের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট।

বিয়ের পরে সংসার-সন্তান, এই সবকিছু নিয়ে বেশ অনেকগুলো বছর অভিনয় থেকে দূরে সরে যেতে হয় তাঁকে। ‘‘আসলে আমার কাছে আমার সংসার সবার আগে, বরাবরই। এই যে আউটডোরে এসেছি আজ, তার আগে সংসারের সব কিছু যতটা সম্ভব গুছিয়ে দিয়ে তবে এসেছি। কিন্তু এটা ঠিক যে কাজের জায়গায় এসে আর আমি সংসার নিয়ে ভাবি না।’’

এই মুহূর্তে শিমূলতলায় আউটডোর শ্যুটিং চলছে ‘পটলকুমার গানওয়ালা’-র। তার ফাঁকেই দূরভাষে এবেলা ওয়েবসাইটের প্রশ্ন ছিল অনন্যা চট্টোপাধ্যায়ের কাছে যে একজন অভিনেত্রী মা হিসেবে অভিনেতা ছেলের কোন কাজ এখনও পর্যন্ত তাঁর চোখে সেরা? অবশ্যই ‘স্বামীজি’ চরিত্রটি বাদ দিয়ে কারণ সত্যিই সেই চরিত্রে অনবদ্য দেবাঞ্জন। এই চরিত্রের জন্য ১০ কেজি থেকে ১২ কেজি ওজন বৃদ্ধি করেছেন, নেড়া হয়েছেন এবং অন্য অনেক বড় প্রজেক্টও ছেড়েছেন।

স্বামীজি চরিত্রে দেবাঞ্জন। ছবি: ফেসুবক পেজ থেকে

‘‘আমি বলব ‘খেলা’ ধারাবাহিকের কথা। রবি ওঝার প্রজেক্ট ছিল। রাহুল অরুণোদয় যে চরিত্রটি করছিল সেটি প্রায় রাতারাতি দেবাঞ্জনকে দেওয়া হয় যেটা খুব কঠিন কাজ। কিন্তু দর্শক যে কীভাবে ওকে অ্যাকসেপ্ট করেছিল কী বলব! এখনও অনেকেই ওই চরিত্রের কথা বলেন। তা ছাড়া ‘কখনও মেঘ, কখনও বৃষ্টি’-র চরিত্রটির কথাও বলব। আসলে ও খুব সিরিয়াস’’, বললেন অনন্যা, ‘‘আর প্রচুর পড়াশোনা করে সারাক্ষণ, বিভিন্ন বিষয়ে। এক এক সময় আমি আর ওর বাবা ওর কথা শুনে অবাক হয়ে যাই। আর অভিনয়ের জন্য ও সব কিছু ছাড়তে রাজি। অন্য কোনও কাজ করার কথা ভাবতেই পারে না।’’ সূত্র- এবেলা