Advertisements
অন্যরকম খবর আন্তর্জাতিক

উড়ে উড়ে ঘুরে বেড়ায় যে মাছ

উড়ুক্কু মাছকে ইংরেজিতে ফ্লাইং ফিশ বলে থাকে। এসব মাছ সমুদ্রের উপরিভাগে অল্প দূরত্ব অবধি উড়ার ক্ষমতা রাখে। এই মাছ অধিকাংশ সময়ই সামুদ্রিক এবং সাধারণত ঝাঁক বেঁধে চলে। অতি দ্রুত সাঁতার কাটতে গিয়ে এরা অনেক সময়ে পানির একেবারে উপরিভাগে চলে আসে এবং পাখনা মেলে বাতাসে উড়াল দেয়।

বাতাসের গতি বা ঢেউয়ের অবস্থার উপর নির্ভর করে এরা ৩০ সেকেন্ড অবধি বাতাসে ভেসে থাকতে পারে। সুগঠিত পাখনা বিশিষ্ট এসব মাছের কোনো কোনোটি পানির উপরিভাগ থেকে ১০ মিটার উচ্চতায় প্রায় ৪০০ মিটার দূরত্ব অবধি চলতে পারে। এই কারণে অনেক সময় এই মাছ আচমকা সমুদ্রগামী জাহাজের ডেকের উপর আছড়ে পড়ে। উষ্ণমণ্ডলের সব সাগরেই এই মাছ দেখা যায়। এদের দৈর্ঘ্য ১০ থেকে ৩০ সেমি অবধি হতে পারে। এরা মূলত শত্রুর হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্যই বাতাসে উড়াল দিয়ে থাকে।

এই মাছের স্বভাব হলো ওড়ার জন্য এদের কোনো ডানা নেই। আছে চ্যাটাল, ঢাউস, ফাঁপা বক্ষপাখনা। পাখনার ভেতরে হাওয়া ভরা থাকায় ওজনেও হালকা। এই বক্ষপাখনার সাহায্যেই বাতাসে ভেসে থাকতে পারে তারা। জানিয়ে রাখা ভালো, এই ওড়াউড়ি কিন্তু প্রকৃত উড্ডয়ন নয়। একে বলে গ্লাইডিং। আরও সহজ করে বললে বাতাসে ভেসে থাকায়।

পানি ছেড়ে হাওয়ায় ভাসার পেছনে রয়েছে দুটি উদ্দেশ্য। প্রথমটা হলো, প্ল্যাঙ্কটন জাতীয় খাবার খেতে পানির ওপরে উঠতেই হয়। দ্বিতীয়টা হলো আত্মরক্ষা। বড় মাছের তাড়া খেয়ে পালিয়ে বাঁচার জন্য পানি ছেড়ে হাওয়ায় উঠে কোনোমতে পালিয়ে বাঁচা। পানির নিচে গড়পড়তা উড়ুক্কু মাছের বেগ হয় ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটারের কাছাকাছি। তবে পানির বাইরে তাদের গতিবিধি কিন্তু আকাশের চোখ তুলে দেওয়ার মতো। ভাবা যায়! পানির ওপরে ৩১২ ফুট উচ্চতা পর্যন্ত তারা দিব্যি ভেসে বেড়াতে পারে!

তবে অনেকেই ভাবছেন এই মাছ খাওয়া যায় কিনা, হ্যাঁ এই মাছ খাওয়া যায় এবং উড়ুক্কু মাছ খেতেও খুব সুস্বাদু। বাণিজ্যিকভাবে জাপান, ভিয়েতনাম, বার্বাডোস ও ভারতে এ মাছ প্রচুর ধরা হয়। বিপুল পরিমাণ উড়ুক্কু মাছের কারণে ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র বার্বাডোসের নামই ছিল ‘উড়ুক্কু মাছের ভূমি’।

Advertisements