খেলা-ধুলা

উৎসবের বিপিএলে নিভৃতে মুস্তাফিজ

mustafiz20160314110442চারিদিকে টিভি ক্যামেরা-সাংবাদিকদের ঝাঁক, রঙ বেরংয়ের জার্সি গায়ে ক্রিকেটার-কর্মকর্তার ছুটোছুটি, দেশি-বিদেশি ক্রিকেটারদের আনাগোনায় জম্পেশ ‘আন্তর্জাতিক’ আড্ডা। মিরপুরের ক্রিকেট পাড়ায় গেলে এই দৃশ্যই এখন চোখে পড়বে। কারণ, গড়াচ্ছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চতুর্থ আসর। এতোকিছুর পরও যেন চাপা একটা ‘অভাব’। আঙিনায় থেকেও নেই মুস্তাফিজুর রহমান।

ঠিক যেই অ্যাকাডেমির মাঠে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জমাটি অনুশীলন, আলোচনা, আর ম্যাচ নিয়ে যুদ্ধ পরিকল্পনা চলছে, সেই অ্যাকাডেমির ডরমিটরিতেই চলে ‘দ্য ফিজ’ এর পদচারণা। বাংলাদেশ জাতীয় দলের অন্যতম সেরা অস্ত্র বাঁ-হাতি মুস্তাফিজ এখন ব্যস্ত মাঠে ফিরতে। কাঁধের ইনজুরি-অস্ত্রোপচার-পুনর্বাসন; তিনে মিলিয়ে বিপিএলের আলো থেকে নিভৃতে ‘কাটার মাস্টার’।

সর্বশেষ আসরে ঢাকা ডাইনামাইটসের হয়ে খেলেছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। সেটাই ছিলো বিপিএলে তার প্রথম অংশগ্রহণ। তার দল ফাইনালে ওঠেনি বটে, কিন্তু বল হাতে ঠিকই নিজের কাজটা সেরে নিয়েছিলেন। ১০ ম্যাচে তুলেছিলেন মোট ১৪ উইকেট। আর টি-টোয়েন্টির বাজারেও ছিলেন রান দেওয়ার ক্ষেত্রে কৃপণ। পরিসংখ্যান বলছে, ম্যাচ প্রতি গড়ে ১৫.২৮ রান খরচ করেছিলেন মুস্তাফিজ।

আশার খবর হলো, বিপিএলের পরই নিউজিল্যান্ড সফরে যাবে বাংলাদেশ। সেখানেই আবারও দলে দেখা যেতে পারে মুস্তাফিজকে। হাতে থাকা ছয় সপ্তাহে নিজেকে শতভাগ ফিট করতে একাই নিজের লড়াইটা চালিয়ে যাচ্ছেন। পুরনর্বাসনের কোন অংশেই কমতি দিচ্ছেন না ‘দ্য ফিজ’। নিয়মিত জিম, রানিংয়ের সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়েছে বোলিংও।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ফিজিও বায়েজিদুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, গেল মঙ্গলবারও বল করেছেন মুস্তাফিজ। নিজের সামর্থের ৪০-৫০% দিয়ে সেদিন ১৮টি বল করেন তিনি।

বায়েজিদুল বলেন, ‘তাকে আমরা নিউজিল্যান্ড সিরিজের জন্য তৈরি করছি। যদি সবকিছু ঠিকঠাক থাকে তাহলে ছয় সপ্তাহ পর সে মোটামুটি ভালো কন্ডিশনে থাকবে বলে আমার মনে হয় অর্থাৎ কম্পিটিটিভ ম্যাচে খেলতে পুরোপুরি প্রস্তুত থাকবে।’

চতুর্থ আসরটা নিশ্চিতভাবেই হারাচ্ছেন তিনি। পরবর্তী আসরে হয়তো পুষিয়ে দেবেন। সে সামর্থ্যটা রাখেন জাতীয় দলের হয়ে ১৩ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ২২ উইকেট নেওয়া মুস্তাফিজুর।

মুস্তাফিজের ইনজুরির শুরুটা গেল বিপিএলের আসরেই। সেটা ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের হয়ে খেলতে গিয়ে আরো খারাপ অবস্থায় রূপ নেয়। পরবর্তীতে পুরনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠেন ‘কাটার মাস্টার’। এ কারণেই ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্লাব সাসেক্সের হয়ে খেলতে যাওয়া বিলম্বিত হতে থাকে।

কিন্তু বিধি বাম। কাউন্টিতে দুইটি ম্যাচ খেলার পর কাঁধের ব্যাথায় আর মাঠে নামতে পারেননি তিনি। অবশেষে চিকিৎসকদের পরামর্শে চলতি বছরের আগস্টের ১১ তারিখে লন্ডনের বুপা ক্রমওয়েল হাসপাতালে অস্ত্রোপচার হয় তার।

আরও পড়ুনঃ হাওয়ায় ভাসা নয় ডুবন্ত সেতুর উপরে চলে গেল গাড়ি (ভিডিওসহ)

Add Comment

Click here to post a comment