রাজনীতি

ইসিকে সংসদ বিলুপ্তির প্রস্তাব দিবে বিএনপি

একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে বর্তমান সংসদ বিলুপ্তির কথা তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

১৩ অক্টোবর শুক্রবার সকালে শান্তিনগরের ‘ইস্টার্ন পয়েন্ট অ্যাপার্টমেন্ট’ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অসুস্থ তরিকুল ইসলামের বাসায় তার স্বাস্থ্যের খোঁজ-খবর নেওয়া শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।  

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা সংসদ বিলুপ্তির কথা সুস্পষ্টভাবে বলব, সেনাবাহিনী নিয়োগের কথা আমরা সুস্পষ্টভাবে বলব। নির্বাচনকালীন সময়ে যখন তফসিল ঘোষণা হবে, তখন প্রশাসনকে যে ব্যবস্থাগুলো নিতে হবে সে বিষয়েও বলব। আরপিওর কোথায় সমস্যা আছে সেটা বলব এবং ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে কী কী নিয়ম চালু করা উচিত, অবজারভারদের (পর্যবেক্ষক) ক্ষেত্রে কী কী নিয়ম থাকা উচিত- ডিটেলস আমাদের প্রস্তাবনায় থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘তারা (ক্ষমতাসীনরা) সংবিধানে যেসব সংশোধনী করেছে, সেই সংশোধনীর মধ্য দিয়ে এই নির্বাচন কতটুকু সুষ্ঠু হবে- সেটাও কিন্তু প্রশ্ন থেকেছে সংশোধনীর মধ্যেই। যেমন পার্লামেন্ট ডিজলবড (বিলুপ্ত) হবে না। পার্লামেন্ট ডিজলবড না করলে কীভাবে নির্বাচনটা সুষ্ঠু হবে? আমাদের এখানে একটা ট্র্যাডিশন হয়ে আসছে, মানুষের মধ্যে একটা সাইকি তৈরি হয়েছে যে, সেনাবাহিনী নিয়োগ না করলে নির্বাচনে সুষ্ঠু অবস্থা আশা করা যায় না। এই বিষয়গুলো আমরা বলেই আসছি, সংলাপেও বলব।’

সহায়ক সরকারের রূপরেখার প্রস্তাবনা কী নির্বাচন কমিশন দেবেন কিনা জানতে চাইলে ফখরুল বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের কাছে আমরা সহায়ক সরকারের রূপরেখা দেব না। আমরা তাদেরকে ধারণাটা দেব। দি পারসেপশন উইল বি গিবেন এবং আমরা এটা বলব যে, এটা ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। রূপরেখাটা আমরা পরে দেব।’

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় দলের যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল ও চেয়ারপারসনের ‍প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, একদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে পরামর্শ পেতে গত ৩১ জুলাই সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বসার মধ্য দিয়ে সংলাপ শুরু করে নির্বাচন কমিশন। এরপর ১৬ ও ১৭ অগাস্ট গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পর ২৪ অগাস্ট থেকে শুরু হয় নিবন্ধিত ৪০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপ।

এবার দলগুলোকে নিবন্ধনক্রমের নিচ থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। সে হিসাবে বিএনপির জন্য ১২ অক্টোবর ও আওয়ামী লীগের জন্য ১৫ অক্টোবর সংলাপের তারিখ প্রস্তাব করা হয়।

কিন্তু বিএনপি দলীয় কর্মসূচির কথা বলে ১৫ অক্টোবর বসতে চাইলে তাদের জন্য সেই দিনই ঠিক হয়। আর আওয়ামী লীগের অনুরোধে তাদের সংলাপের জন্য ১৮ অক্টোবর তারিখ রাখা হয়।