slider জাতীয়

আরো এক মেয়াদে ক্ষমতায় রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়তে বড় ও মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। এজন্য তিনি আরো এক মেয়াদে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

শনিবার বিকেলে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করবে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েই এই সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপিত হবে এবং দল ক্ষমতায় থেকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়ে তুলবে।

তিনি বলেন, ১৯৯৬-২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ৫ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রণয়ন করে। বর্তমানে আমরা ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছি। ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করে দেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনে এই পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি আমরা।

২০২০ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকীতে দশ বছর মেয়াদী একটি দীর্ঘ পরিকল্পনা সম্পন্ন করা হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপিত হবে। দশ বছর মেয়াদী এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশের জনগণকে আর কখনোই দুর্ভিক্ষের সম্মুখীন হতে হবে না এবং ক্ষুধায় কষ্ট করতে হবে না।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালের পর থেকে ক্ষমতায় থাকায় জিডিপি ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ হয়েছে। মাথা পিছু আয় ১ হাজার ৬০২ মার্কিন ডলার হয়েছে। চলতি অর্থবছরে চার লাখ কোটি টাকার অধিক বাজেট দেয়া সম্ভব হয়েছে। উন্নয়ন বাজেটের ৯০ শতাংশই অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে আসছে।

দেশের গণতান্ত্রিক পদ্ধতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৮ ও ২০১৪ সালে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে নির্বাচন পরিচালনা করেছে। তিনি বলেন, নির্বাচন পরিচালনা করতে গিয়ে বিএনপি-জামায়াতের হাতে একজন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারকে জীবন দিতে হয়েছে। তা সত্বেও কমিশন শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন পরিচালনা করেছে।

দেশের জনগণ নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটা তাদের স্বাধীনতা, তাদের মৌলিক অধিকার, গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার এবং এ সাংবিধানিক অধিকার অব্যাহত থাকবে। জনগণ যাকে ভোট দিবে তারাই ক্ষমতায় আসবে।’

আওয়ামী লীগকে উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে দেশের উন্নয়ন হয়, জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন তারা দুর্নীতি ও লুটপাটে রাজত্ব কায়েম করেছিল। দেশের জনগণ তাদের দুর্নীতি ও লুটপাটের কথা ভুলে যায়নি, ভবিষ্যতেও যাবে না। তিনি আরো বলেন, বিএনপির শাসনামলে বাংলাদেশ দুর্নীতিতে ৫ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। দেশের মানুষ তা ভুলে যায়নি।

তিনি আরো বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট ২০০১-০৬ পর্যন্ত বিরোধীদলের নেতা-কর্মীদের অবর্ণনীয় নির্যাতন-নিপীড়ন চালিয়েছে। তাদের নির্যাতনের হাত থেকে নারী-শিশুরাও রেহাই পায়নি। তারা ঢাকা এবং সারাদেশে আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভাঙচুর করেছে। কিন্তু আমরা কোন প্রতিশোধ নেইনি।

শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি দেশ পরিচালনার জন্য ক্ষমতায় আসেনি, তারা রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও দুঃশাসনের জন্য এসেছিল। তিনি আরো বলেন, তারা হাওয়া ভবন চালু করে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছিল।

বন্যা মোকাবেলায় তাঁর সরকারের পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বছর দেশে বড় ধরনের বন্যার সম্ভাবনা রয়েছে। ‘আমাদের পর্যাপ্ত খাবার মজুদ আছে, কাজেই জনগণ দুর্ভোগে পড়বে না। তা সত্বেও আমরা খাদ্য আমদানি করছি। কাজেই আমরা সময় মতো জনগণের মাঝে খাদ্য পৌঁছে দিতে পারবো।’

Advertisements