Advertisements
জাতীয়

‘আমার অনেক কষ্ট হয়, পোকাগুলো শুধু কামড়ায়’- মুক্তামনি

মুক্তার কষ্ট আমার ভালো লাগে না। আমি আবার আমার বোনের সাথে খেলা করতে চাই, আপনারা সবাই আমার বোনের জন্য দোয়া করবেন এভাবেই নিজের বোনের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাইলেন বিরল রোগে আক্রান্ত সাতক্ষীরার শিশু মুক্তামনির যমজ বোন হীরামনি।

৩য় শ্রেণীতে পড়া হীরামনি জানান, আমি আমার বোনের সাথে স্কুলে যেতে চাই। কতদিন ধরে আমি আমার বোনের সাথে খেলা করতে পারি না। ও শুধু ব্যাথায় কান্না করে, আমার ভালো লাগে না। আমি ওকে খুব ভালোবাসি। আপনারা সবাই আমার বোনের জন্য দোয়া করবেন আল্লাহ যেন আমার বোনকে সুস্থ্ করে দেয়।

মুক্তামনি এখন কেমন আছো, শরীরের মধ্যে কেমন লাগে জানতে চাইলে সে জানায় , ‘আমার অনেক কষ্ট হয়। হাতে মাঝে মাঝে অনেক ব্যাথ্যা করে যা সহ্য করতে পারি না। আমি শুধু কান্না করি। আমার মা তখন আমার হাতের মধ্যে থেকে অনেক অনেক পোকা বের করে দিত। তখন আমার ভালো লাগত। সব সময় জ্বালা যন্ত্রনা হয়, হাতের পোকাগুলো শুধু কামড়ায়। আমি ঘুমাতে পারি না। আমি আবার সুস্থ্ হতে চাই। আপনারা সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।’

বিরল রোগে আক্রান্ত সাতক্ষীরার শিশু মুক্তামনিকে মঙ্গলবার (১১ জুলাই) সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) বার্ণ ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।

শিশু মুক্তামনির বাবা সাতক্ষীরার সদর উপজেলার কামারবায়সা গ্রামের মুদি দোকানি ইব্রাহীম হোসেন  জানান, মঙ্গলবার সকালে ৭টার দিকে তিনি তার মেয়েকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে এসেছেন এবং সকাল ১১টার দিকে তাকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ণ ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে সে কেবিন ব্লকের ৬তলার ৬০৮ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

তিনি বলেন, দেশবাসীর কাছে আমার একমাত্র চাওয়া সবাই যেন আমার অসুস্থ মেয়েটার মুখের দিকে তাকিয়ে নামাজান্তে আমার এই ছোট্ট মেয়েটার জন্য দোয়া করে। আমি যেন আমার মেয়েটাকে আবারও সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে ফিরে পাই। এটাই আমার একমাত্র চাওয়া।

ঢাকা মেডিকেলের চিকিৎসকদের প্রতি আস্থা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ডা. সামন্ত লাল তাদের মেয়ের চিকিৎসার সব দায়িত্ব নিয়েছেন। আমি আমার মেয়েকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেলে আসার পর এখানকার ডাক্তাররা খুবই আগ্রহ নিয়ে আমার মেয়েকে দেখছেন। ডা. সামন্ত লাল সেন আমারে খুবই আশ্বাস দিয়েছেন এবং বলেছেন আমার বাচ্চা ভালো হয়ে যাবে। সূত্র- বিডি২৪লাইভ

Advertisements