অন্যরকম খবর আন্তর্জাতিক ছবি লাইফ স্টাইল স্বাস্থ্য

আমরুম দ্বীপে মোটা স্বাস্থ্য চিকন করার আবাসিক প্রকল্প, বিশ্বে এটাই প্রথম!

সিব্বীর ওসমানীঃ  জার্মানীর উত্তর সাগরে অবস্থিত বিশেষ পর্যটন স্থান আমরুম দ্বীপ। জ্যুল্ট দ্বীপের পাশেই আমরুম-এর অবস্থান। প্রতি গ্রীষ্মে সেখানে গড়ে প্রায় আট হাজার পর্যটকের দেখা মেলে। তখন তাঁদের আপ্যায়ন করতেই ব্যস্ত হয়ে পড়েন দ্বীপবাসী। তাই শীতকাল এলেই আরাম করতে চলে যান তাঁরা। তবে সেসময় যে অল্প সংখ্যক পর্যটক সেখানে যান তাঁরা নির্জন প্রকৃতির সঙ্গে মিশে যেতে পারেন।

কিন্তু সেই নৈসর্গিক আমরুম দ্বীপ এবার বিশ্ববাসীর কাছে এক নতুন আহ্বান নিয়ে এসেছে। এখানে চালু হয়েছে স্বাস্থ্য সচেতন মানুষেদের জন্য একটি বিশেষ প্রকল্প। আর সেটা হলো, অতিকায় স্থুল স্বাস্থের অধিকারী যারা, তাদের জন্য আবাসিক ব্যবস্থাপনায় স্লিম ও সুগঠিত স্বাস্থ্য উদ্ধার করার প্রকল্প। এতে রয়েছে শিশুদের জন্যও বিশেষ প্রকল্প।

আমরুম দ্বীপের একটি হাসপাতালে ডাক্তার ও থেরাপিস্টরা অতিরিক্ত ওজনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালাচ্ছেন। সেখানে স্বাভাবিক ওজন ফিরে পেতে উপবাসের বদলে খাওয়া দাওয়া ও খেলাধুলা করতে হয়। সুস্বাস্থ্য ফিরে পেতে এখানে অবস্থান করা ইয়ান নামক এক কিশোরের বর্ণনাতেই আমরা জানব মোট স্বাস্থ্য চিকন করার সেই অভিনব প্রকল্প সম্পর্কে।

ইয়ান এখানে আসার আগে তার ওজন ছিল ৯০ কিলোগ্রামের বেশি। চার সপ্তাহ এখানে অবস্থান করে সে বিশেষ ফল পেয়েছে। বর্তমানে তার বন্ধুরা যখন অঙ্ক কষতে ব্যস্ত, তখন সে এখানে ঠিকমতো খাওয়া দাওয়া করতে শিখছে। সে বলে, `বাড়িতে বেশিরভাগ সময়ে পাস্তা খাওয়া হয়। স্প্যাগেটির নানা পদ। তার উপর আমি বরাবর বেশি খেয়েছি। ফলে অতি দ্রুত খুব মোটা হয়ে গিয়েছিলাম।’

১৭ বছরের এই কিশোর এখনো খেতে বড় ভালোবাসে। তবে চারবেলা খাবারের মাঝে ফাঁকে চটজলদি কিছু খাবার অভ্যাস সে নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছে। তার মতে, প্রথম তিন দিনে সব সময়ে শুধু খিদে পেতো। তারপর অভ্যাস হয়ে যায়। আমার পেট আবার ছোট হয়ে গেছে। এখন আর অত খাবার ঢোকে না।’

নজরদারির মধ্যে খাবারের প্রশিক্ষণ চলছে। ছোট চামচ দিয়ে ছোট এক পাত্র স্যুপ খেতে হবে। ইয়ানকে শিখতে হবে, যে অবসাদের কারণে এবং মূল খাবারের সময়ের ফাঁকে কিছু খেলে চলবে না। প্রশিক্ষক স্ভেনইয়া বোন বলেন, বাচ্চাদের এমন অভ্যাস করাতে চাই, যা তারা সত্যি প্রয়োগ করতে পারে। কী খাবে, তারা নিজেরাই যাতে তা স্থির করতে পারে, সেই সিদ্ধান্ত নিতে শেখাতে চাই। বিষয়টি মনস্তাত্ত্বিক। তারা নিজেরাই বলবে, যথেষ্ট হয়েছে আর নয়। খিদে পাওয়া ও পেট ভরার অনুভূতি আবার জাগিয়ে তুলতে হবে।

ইয়ান এখন জানে, ঠিক কতটা খাবার তার জন্য যথেষ্ট। দুই বড় টুকরো মাংস, একমুঠো শাকসবজি বরাদ্দ রয়েছে। বাড়িতে ফিরেও সহজ এই হিসেব সে চালু করতে চায়, যাতে হারানো ওজন আবার ফিরে না আসে। ইয়ান এখন ব্যায়াম করছে। অথচ আগে সে অবসর সময়ে বন্ধুদের সঙ্গে কম্পিউটার গেমস খেলতেই বেশি ভালোবাসতো। সেটা যে ভালো নয়, সেই উপলব্ধিও হয়েছিল। তবে একা সেই অভ্যাস ত্যাগ করা তার জন্য কঠিন ছিল।

এখানকার ক্রীড়া শিক্ষক ইমো ক্রেমস বলেন, আমার মনোভাব হলো, শিশুদের বলে দাও যে তারা কোনোকিছু করতে বাধ্য নয়। নিজেদের ইচ্ছামতো চলতে পারে৷ সেটা তাদের মনে ধরে৷ সেই বোঝাপড়া অনুযায়ী অগ্রসর হই৷ খুব মজা হয়, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান দেখা যায়৷'' ইয়ান দিনে তিনবার জিমে যায়৷ নতুন এই জীবনে খেলাধুলা অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে৷ সে বলে,এখন আমার আরও খেলাধুলার প্রয়োজন আগেও খেলাধুলা ভালো লাগতো বটে, কিন্তু আমি বড় কুঁড়ে ছিলাম৷ স্কুলে সারাদিনের পরিশ্রমের পর খেলাধুলাকে বোকামি মনে হতো ‘।

আমরুম দ্বীপে ইয়ান-এর শেষ দিন। সে জানে, বাড়ি ফিরলে হাজারটা প্রলোভন অপেক্ষা করে রয়েছে৷ কিন্তু পুরানো অভ্যাস ত্যাগ করতে এখন সে অনেক বেশি প্রস্তুত৷ সে বলে, সপ্তাহে শুধু এক দিন কঠিন পরিশ্রম করতে হয় না। ক্লান্তির কারণে সপ্তাহে কয়েক দিন কিছুই করা হচ্ছে না, এমনটা হতেই পারে৷ তখন আবার তা নিয়ন্ত্রণ করতে হয়৷ নতুন জীবনের সূচনা৷ ৪ সপ্তাহে ইয়ান শুধু ১০ কিলো ওজন কমায়নি, আত্মমর্যাদার এক নতুন বোধ সে গড়ে তুলেছে৷ তার লক্ষ্য কী? অবশ্যই ৭০ কিলোয় ফিরে যেতে চাই৷ তখন স্বাভাবিক ওজন হবে৷ তখন পেশি আরও শক্তিশালী করতে পারি৷ আদর্শ সৌন্দর্যের পথে এগোতে পারি৷”

ইয়ানের মত শত মানুষ মানুষ তাদের সুস্বাস্থ্য ফিরে পেতে চলে আসছে আমরুম দ্বীপে। বিষয়টি বিশ্বের স্বাস্থ্য সচেতন মানুষদের জন্য একটি নতুন সম্ভাবনার দুয়ার। এরকম ব্যবস্থাপনা চালু হতে পারে আরও নানা জায়গায়।

সূত্র: গুগল, উইকিপিডিয়া।