লাইফ স্টাইল

আপনি কি যৌনতাহীন?

11মানুষের নানা ধরনের যৌন চরিত্র রয়েছে। বিপরীতকামী ও সমকামীই এ ক্ষেত্রে সবকিছু নয়, অনেকের যৌনতার চরিত্রকে এসেক্সুয়াল বা যৌনতাহীন বলে ধরা হয়। এ ধরনের ব্যক্তি মূলত যৌন সম্পর্ক বিষয়ে কোনো আগ্রহ পান না। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।

এক নারী চিকিৎসকের কাছে চিঠিতে লিখেছেন, ‘২১ বছর বয়সে আমার সঙ্গী আমাকে ছেড়ে যায়। এর কারণ ছিল আমি তার যৌন আকাঙ্ক্ষা যথাযথভাবে পূরণ করতে পারছিলাম না। এর কারণ সামাজিক কিংবা অন্য কোনো বিষয় ছিল না। একমাত্র কারণ ছিল, আমি যৌনতায় মোটেই আগ্রহ পাইনি। আমি আগে ধারণা করেছিলাম, যৌনতার অভ্যাস না থাকার কারণে আমার এমনটা হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে ইন্টারনেটে অনুসন্ধান করে আমার ধারণা হয় যে, আমি যৌনতাহীন একজন ব্যক্তি। এ বিষয়টি অনুসন্ধান করে জানার পর আরেকটি বিষয় আমি নির্ণয় করতে পারি- আমি কখনোই তার প্রতি রোমান্টিকভাবে জড়িয়ে পড়িনি। আমার সে সম্পর্ক গড়ে ওঠার কারণ ছিল, আমার দেখামতে এটাই ছিল স্বাভাবিক বিষয়। সবাই করে, তাই আমিও করেছিলাম।’

এ বিষয়ে একজন বিশেষজ্ঞ ড. প্রকাশ কথারি বিষয়টিকে যৌনতার পটভূমি তৈরি না হওয়াকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, ‘একজন যৌনতাহীন ব্যক্তি হলেন তিনি, যার যৌনতার পটভূমি তৈরি হয়নি। এটি মূলত দুটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে তৈরি হয়- যৌন আকাঙ্ক্ষা ও উত্তেজনা। চিকিৎসাবিদ্যা অনুযায়ী যৌনতাহীন ব্যক্তির এ দুটি বিষয়ই থাকে না। অন্যভাবে বলতে গেলে, এ ব্যক্তিকে অন্য কাউকে যৌনতার জন্য আকর্ষণীয় বলে মনে করে না। এ কারণৈ যৌনতার কোনো চাহিদাও থাকে না।’

জনপ্রিয় ধারণা
অনেকেই যৌনতার ক্ষেত্রে কোনো আকর্ষণ বোধ করেন না। এ ক্ষেত্রে তাদের ধারণা হতে পারে এটি হয়ত নিজের জন্য উপযুক্ত আকর্ষণীয় ব্যক্তি খুঁজে না পাওয়ার সমস্যা। যদিও কোনো ব্যক্তির প্রতিই এ ধরনের মানুষরা যৌন আকর্ষণবোধ করেন না। এ বিষয়ে জুলি সন্দ্রা তার বই ‘দ্য ইনভিজিবল ওরিয়েন্টেশন : অ্যান ইন্ট্রুডাকশন টু এসেক্সুয়ালিটি’-এ বেশ কিছু বিষয় তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, বহু মানুষই যৌনতার তাগিদ না পাওয়াকে গুরুত্ব দেন না। অনেকের ধারণা থাকে এটি সঠিক মানুষ খুঁজে না পাওয়ার বিষয় কিংবা যৌনতার বিষয়ে অভ্যাস না থাকার কারণে হয়। তবে যৌনতাহীন ব্যক্তিদের মানসিকভাবে অসুস্থ বলেও ধরা যায় না। এমনকি ছোটবেলায় যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার কারণে এমনটা হয়েছে, তাও নয়। এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি সমস্যা।

আবেগগত সংযোগ
কিছু যৌনতাহীন ব্যক্তি বিপরীত লিঙ্গের মানুষের প্রতি পরিপূর্ণভাবে আগ্রহ বোধ করে না। অনেকে আবার কিছুটা আকর্ষণবোধ করে। তবে চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, কিছু যৌনতাহীন ব্যক্তি অপরের সঙ্গে রোমান্টিকভাবে সংযুক্ত হতে নানা সমস্যার মুখোমুখি হয়। এ ক্ষেত্রে তাদের অনুরূপ যৌনকামনাসম্পন্ন ব্যক্তি খুঁজে বের করাই বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অক্সিটসিন হরমোনটি অর্গাজমের সময় নির্গত হয়। এটি আবেগগত সম্পর্ক তৈরি করতে কাজ করে। কিন্তু এ হরমোনটি তৈরি না হলে রোমান্টিকভাবে সম্পর্ক তৈরি করা কঠিন বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। এ কারণে অনেক যৌনতাহীন ব্যক্তিই রোমান্টিক সম্পর্কে জড়াতে চান না।

দুই ধরনের যৌনতাহীন ব্যক্তি

একেবারেই যৌনতাহীন ব্যক্তি ছাড়াও বেশ কয়েক ধরনের যৌনতাহীন ব্যক্তির কথা জানান চিকিৎসকরা।                       এগুলো হলো :

ডেমিসেক্সুয়াল – এ ধরনের ব্যক্তিরা সাধারণত যৌনতাহীন থাকলেও মনের মতো কারো সঙ্গে দেখা হলে ধীরে ধীরে যৌনতা অনুভব করতে শুরু করেন। মূলত আবেগগত সম্পর্ক তৈরির পর বিষয়টি পরিবর্তিত হয়।

গ্রেসেক্সুয়াল– এ ধরনের ব্যক্তি খুব বিরল ঘটনায় যৌন আকর্ষণ বোধ করেন। এটি মূলত যৌন ও অযৌনের মাঝামাঝি পর্যায়। এরা সাধারণত যৌনতা অনুসন্ধান করেন না এমনকি কোনো সম্পর্কে জড়ালেও তা হয় না।

বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিজ্ঞান এখনও যৌনতাহীন বা যৌন আকর্ষণ বোধ না করার কারণ নির্ণয় করতে পারেননি। এ ধরনের ব্যক্তিরা শারীরিক সব লক্ষণ ঠিক থাকার পরও যৌনতায় কোনো আকর্ষণ বোধ করেন না। গবেষকরা জানাচ্ছেন, এর পেছনে মানবদেহের জিনের ভূমিকাথাকতে পারে।

সচেতনতার অভাব
অধিকাংশ মানুষই যৌনতাহীন ব্যক্তিদের বিষয়টি নিয়ে অজ্ঞানতায় থাকেন। এ কারণে বিষয়টি নিয়ে যথাযথভাবে সচেতনতা গড়ে ওঠেনি। এতে বিষয়টি নিরাময়ের উপায় নিয়েও কোনো বিষয় জানতে পারেন না ভুক্তভোগীরা। এ বিষয়ে ড. কামিনি দেশমুখ বলেন, ‘যথাযথ সচেতনতা ও শিক্ষা বিস্তারের মাধ্যমে যৌনতাহীন মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসা উচিত। এতে তারা নিজেদের বিষয়ে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন এবং তাদের অনুভূতি অন্যের কাছে প্রকাশ করতে পারবেন। এ ছাড়া এতে তাদের ভয় ও ভুল বোঝাবুঝিরও অবসান হবে।’

ভিডিওঃ ক্রিকেট দুনিয়ায় অস্থির কিছু ক্যাচ আউটের অবস্থা দেখে আপনিও না হেসে পারবেন না (ভিডিও)

Add Comment

Click here to post a comment