লাইফ স্টাইল স্বাস্থ্য

আপনি কি ভাবছেন তেঁতুল খেলে বুদ্ধি কমে?

রেহেনা আক্তার রেখা: ছোটবেলায় বাবা মায়ের কাছ থেকে নিশ্চয় শুনেছেন তেঁতুল খেতে নেই, তেঁতুল খেলে বুদ্ধি কমে যায়। তেঁতুল খেলে স্মৃতিশক্তি কমে যায়। তাই হয়তো তেঁতুল পছন্দ করার পরও তেঁতুল খাওয়া থেকে আপনি নিজেকে বঞ্চিত রেখেছেন। বার বার ইচ্ছে করেও তেঁতুল খাওয়া থেকে বিরত থেকেছেন।

শুধু তাই নয় তেঁতুল নিয়ে মানুষের অনেক ভুল ধারণা রয়েছে। অনেকে মনে করেন তেঁতুল গাছে নাকি জ্বীন পরী বসবাস করে। এই ধরণের ভুল ধারণার কারণে অনেকে ভর দূপুরেও তেঁতুল গাছের নিচ দিয়ে যেতে ভয় পায়।

কিন্তু আপনি হয়তো জানেনা এই তেঁতুল আমাদের কত উপকারী। তেঁতুল খেলে আমাদের বুদ্ধি কমেনা বরং বাড়ে। তাই এতদিন তেঁতুল না খেয়ে যে ভুল করেছেন আজ থেকে সেই ভুল আর করবেন না। কারণ তেঁতুলের এসকর্বিক এসিড খাবার থেকে আয়রন আহরণ, সংরক্ষণ এবং তা বিভিন্ন কোষে পরিবহন করে। যা মস্তিষ্কের জন্য খুব প্রয়োজন। মস্তিষ্কে আয়রনের পর্যাপ্ত সরবরাহ চিন্তা ভাবনার গতি বৃদ্ধি করে।

শুধু তেঁতুল নয় , তেঁতুলগাছের পাতা, ছাল, ফলের শাঁস (কাঁচা ও পাকা), পাকা ফলের খোসা, বীজের খোসা সবকিছুই উপকরী। এর কচিপাতায় রয়েছে যথেষ্ট পরিমাণে এমাইনো এসিড। পাতার রসের শরবত সর্দি-কাশি, পাইলস ও প্রস্রাবের জ্বালাপোড়ায় বেশ কাজ দেয়।

দেখা যায়, পুরোনো তেঁতুলের কার্যকারিতা বেশি। যদি পেট ফাঁপার সমস্যা থাকে এবং বদহজম হয়, তাহলে পুরোনো তেঁতুল এক কাপ পানিতে ভিজিয়ে সামান্য লবণ, চিনি বা গুড় দিয়ে খেলে অসুবিধা দূর হয়। আবার হাত-পা জ্বালা করলেও এই শরবতে উপকার পাওয়া যায়।

এছাড়া তেঁতুল চর্বি কমানোয় বেশ বড় ভূমিকা রাখে। তবে তা দেহের কোষে নয়, রক্তে। এতে কোলস্টেরল ও ট্রাইগ্রাইসেরাইডের মাত্রা এবং রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।সুতরাং আপনি তেঁতুল খাওয়া থেকে আর নিজেকে বঞ্চিত করবেননা। আশাকরি তেঁতুলের এত উপকারীর কথা শুনে আপনি নিজে তেঁতুল খাবেন আর অন্যকে উৎসাহ দিবেন।