মতামত/বিশেষ লেখা/সাক্ষাৎকার

আজব রোগে আজব ওষুধ-মুনীরউদ্দিন আহমদ

%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a7%80%e0%a6%b0%e0%a6%89%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a6%86%e0%a6%b9%e0%a6%ae%e0%a6%a6বিশ্বায়নের যুগে পুঁজিবাদী ও ভোগবাদী সমাজব্যবস্থায় বাস করতে গেলে দৈনন্দিন জীবনে প্রতিনিয়তই আমাদের হাজারো পারিবারিক ও সামাজিক সমস্যার মোকাবিলা করতে হয় যা দৈনন্দিন জীবনে ঘটতে পারে বা যা ঘটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অন্তর্গত। তার মোকাবিলায় আমাদের শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি থাকা জীবনেরই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। জীবনের এ ধরনের ঘটনাপ্রবাহে ওষুধ গ্রহণ বা প্রদান করা হলে আমাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। প্রথমত. অপরীক্ষিত অবস্থায় যদি এমন একজনকে একটি ওষুধ প্রেসক্রাইব করা হয়, তা কাজ করবে কি না তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। যে ওষুধ জটিল ক্লিনিক্যাল বিষাদগ্রস্ততার উপসর্গে ব্যবহার করা হয়, তা সাধারণত দুঃখকষ্ট ও হতাশা দূরীকরণে বা উপশমে কাজ করবে এমন নিশ্চয়তা চিকিৎসাবিজ্ঞান দেয় না। এ ধরনের একটি অপরীক্ষিত ওষুধের ব্যবহারকে অফ লেভেল ব্যবহার বা অননুমোদিত ব্যবহার হিসেবে গণ্য করা হয়। দ্বিতীয়ত. ওষুধ গ্রহণের আগে ওষুধের উপকারিতা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ভারসাম্য নির্ণয় করতে হয়, যাকে আমরা রিস্ক বেনিফিট রেশিও বলে থাকি। কার্যকর ও নিরাপদ ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যত কম হবে, রোগীর জন্য তত মঙ্গল। ক্যান্সার, এইডস বা হৃদরোগে ব্যবহৃত অনেক ওষুধের রিস্ক বেনিফিট রেশিও মার্জিনাল হওয়া সত্ত্বেও জীবন রক্ষার জন্য এসব ওষুধ ব্যবহার করতে হয়। দৈনন্দিন জীবনের পারিবারিক ও সামাজিক সমস্যাকে স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে আখ্যায়িত করে ওষুধ প্রদান করলে মূল সমস্যা ঢাকা পড়ে যায় এবং কোনো দিন তার সমাধান হয় না।

কানাডায় প্রেসক্রিপশন ওষুধের বিজ্ঞাপন প্রচার নিষিদ্ধ কিন্তু পার্শ্ববর্তী দেশ যুক্তরাষ্ট্রে তা বৈধ। আমেরিকায় প্রেসক্রিপশন ড্রাগের বিজ্ঞাপন প্রচারিত হলে অসংখ্য টেলিভিশন চ্যানেল ও ম্যাগাজিনের মাধ্যমে কানাডার মানুষ তা অনায়াসে দেখতে পায়। ওষুধের বিজ্ঞাপন দেখলে বা ভাষা পড়লে স্বাভাবিক জীবন আর স্বাস্থ্য সমস্যার মধ্যে পার্থক্য দুর্বোধ্য হয়ে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়াত সাংবাদিক লিন প্যায়ার ওষুধকারবারীদের (Disease mongering) সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছিলেন, এরা ওষুধ বিক্রির স্বার্থে ভালো মানুষকে অসুস্থ ও কিঞ্চিৎ অসুস্থ মানুষকে পুরোদস্তুর অসুস্থ মানুষ হিসেবে প্রমাণ করতে সব রকম কারসাজির আশ্রয় নেয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তা মানুষকে বোঝাতে সক্ষমও হয়। অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট ওষুধের বিজ্ঞাপন প্রচার শুধু ওষুধ বিক্রির জন্যই করা হয় না। তারা মানুষকে এ-ও খাওয়াতে চেষ্টা করে যে বিষাদগ্রস্ততা মস্তিষ্কের নার্ভকোষে প্রাকৃতিক রাসায়নিক যৌগের ভারসাম্যহীনতার জন্যই উদ্ভব হয় এবং ওষুধ এই ভারসাম্যহীনতা দূর করে মানুষকে সুস্থ করে তোলে। কিন্তু কতটুকু যুক্তিযুক্ত বিজ্ঞাপনের এই ধরনের জৈবিক বিশ্লেষণ? বৈজ্ঞানিক জেফরি লাকাস ও জনাথন লিও মস্তিষ্কের রসায়ন ও বিষাদগ্রস্ততার মধ্যে যোগসূত্র প্রমাণ পুনর্মূল্যায়নে সচেষ্ট হন। তাঁরা এই তত্ত্বের সমর্থনে একটিও বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ বা তথ্য খুঁজে পাননি। তাঁরা আরো বিস্তৃতভাবে বর্ণনা করেন, এমন একটিও বৈজ্ঞানিক তথ্য বা তত্ত্ব খুঁজে পাওয়া গেল না, যা সমর্থন করে যে মস্তিষ্কে সেরোটনিনের ঘাটতির কারণেই মানসিক অসুস্থতার সৃষ্টি হয়। কিন্তু ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন পর্যন্ত ওষুধ কম্পানিগুলোকে বিজ্ঞাপন প্রচারে অনুমতি দিল, যাতে লেখা থাকবে—মস্তিষ্কে রাসায়নিক ভারসাম্যহীনতা ‘সম্ভবত’ বিষাদগ্রস্ততা উত্পত্তির কারণ। এখানে ‘সম্ভবত’ শব্দটি খুবই গুরুত্ব বহন করে। কোনো বাক্যে বা উক্তিতে সম্ভবত শব্দটি ব্যবহার করা হলে তা বৈজ্ঞানিক সত্য বলে প্রমাণিত হয় না। অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট মস্তিষ্কের রাসায়নিক পরিবর্তন সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে বিষাদগ্রস্ততা মস্তিষ্কে রাসায়নিক ভারসাম্যহীনতার ফল। কম কথা বলা একজন লাজুক মানুষকে মদ খাওয়ালে তার মুখ দিয়ে কথার খই ফুটবে। এর অর্থ কী এই যে এই লাজুক মানুষটির শরীরে অ্যালকোহল বা মদের ঘাটতি রয়েছে? আরো একটি উদাহরণ দিই। প্যারাসিটামল খেলে মাথাব্যথা সারে। এর অর্থ এই নয় যে তার মস্তিষ্কে প্যারাসিটামলের ঘাটতি রয়েছে। অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট প্রদান করলে মেজাজ পরিবর্তন হয়, হতাশার উপসর্গগুলোর উন্নতি হয়। কিন্তু সেটা কী ওষুধের কারণে নাকি মনস্তাত্ত্বিক কারণে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। পরীক্ষায় দেখা গেছে, অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট প্রদান করলে ১০ জন মানুষের মধ্যে ছয়জন ভালো বোধ করে। অন্যদিকে প্ল্যাসিবো (যে ওষুধে কোনো সক্রিয় উপাদান নেই, যেমন সুগার পিল) প্রদান করলেও ১০ জনের মধ্যে অন্তত পাঁচজন সুস্থ বোধ করেন। সিদ্ধান্তের ব্যাপার, আমরা মানসিক রোগীকে ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করব, নাকি সুগার পিল দিয়ে তাকে সুস্থ করে তুলব।

ওষুধ বিক্রির উদ্দেশ্যে প্রমোটররা বিজ্ঞাপনে মানুষের মানসিক অবস্থাকে অতিরঞ্জিত করে উপস্থাপন করে। এটা শুধু মানসিক অবস্থার মধ্যে সীমিত নয়। প্রথম যখন রেস্টলেস লেগ সিনড্রোমের (Restless Leg Syndrome) (অস্থির বা বিরামহীন পদ উপসর্গ) ওষুধ বাজারে ছাড়া হয়। তখন ডার্টমাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক স্টিড ওলশিন ও লিসা সোয়ার্টজ দুই বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের বিজ্ঞাপন অনুসরণ করেছেন। বিরামহীন পা নাচানো হলো এক ধরনের অপ্রীতিকর অবস্থা, যা বিশ্রামে থাকলে উত্পত্তি হয়। যাদের মধ্যে এসব উপসর্গ থাকে, তা হয় অতি মৃদু। খুব অল্পসংখ্যক মানুষের মধ্যে এই উপসর্গগুলো মারাত্মক হতে পারে। কিন্তু দুই-তৃতীয়াংশ বিজ্ঞাপনে বা খবর প্রতিবেদনে অতিরঞ্জিত করে বলা হয়েছে যে ১২ মিলিয়ন আমেরিকান এই উপসর্গে আক্রান্ত। এই পরিসংখ্যান গ্রহণ করা হয়েছিল এক ভুল পদ্ধতিতে। তারা এ-ও উল্লেখ করেনি যে এই উপসর্গগুলোর কারণে মানুষের খুব অসুবিধা হয় না। আবিষ্কৃৎত ওষুধটিকে অলৌকিক ওষুধ হিসেবে অ্যাখ্যায়িত করা হয়েছিল, যদিও প্ল্যাসিবোর সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায় আটজনের মধ্যে মাত্র একজন ভালো অনুভব করে। এই ফল বৈজ্ঞানিক বা পরিসংখ্যানের ভাষায় অর্থবহ বা গুরুত্বপূর্ণ নয়। যখন কোনো নতুন ওষুধ বাজারে আসে এবং তার বিপণনের জন্য বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়, তখন মানুষ সাধারণত বিজ্ঞাপনের টেকনিক্যাল শব্দ বা ভাষা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বুঝে উঠতে পারে না। তার পরও এসব বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয় চিকিৎসকদের ওষুধ প্রেসক্রাইবিংকে প্রভাবান্বিত করার জন্য। অনেক চিকিৎসকসহ এটা খুব কম লোকই জানে ওষুধের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে। সেটা যদি অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট বা মানসিক রোগের ওষুধ হয়, তাহলে তো কথাই নেই। এক বৈজ্ঞানিক রিপোর্টে জানা গেছে, কোকা-কোলা বা বাডভাইজারের বিজ্ঞাপন যে কম্পানি তৈরি করে, ঠিক একই কম্পানি ওষুধের বিজ্ঞাপন তৈরি করে। সাদা থেকে আরো সাদা করার পরিষ্কারকের বিজ্ঞাপনে যেমন একজন পরিতৃপ্ত, প্রাণবন্ত ও সজীব গৃহিণীকে উপস্থাপন করা হয়, তেমনি ওষুধ গ্রহণের পর সুস্থ, সুখী ও প্রাণবন্ত রোগীর ছবি দেখিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হয়। পরিষ্কারকের মাধ্যমে কাপড়কে সাদা থেকে আরো সাদা, ক্রিম বা লোশন ব্যবহারে উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হওয়া এবং ওষুধ গ্রহণের কারণে সুস্থ ও সুখী হওয়ার ব্যাপারগুলো বিজ্ঞাপনে যেভাবে টেকনিক্যালি ফলাও করে প্রচার করা হয়, বাস্তবে তা কখনো ঘটে না। তার পরও বিজ্ঞাপন মানুষের ওপর দারুণ প্রভাব ফেলে।

দুশ্চিন্তা ভালোই কাজ করে। কানাডায় ওষুধের বিজ্ঞাপন বৈধ না হলেও কম্পানিগুলোকে ওষুধের নাম ছাড়া বিজ্ঞাপন প্রচারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। যেমন নামহীন কোলেস্টেরল কমানোর একটি ওষুধের বিজ্ঞাপনে ফিতা দিয়ে পায়ের আঙুল বাঁধা একটি মৃতদেহ দেখিয়ে বলা হয়েছে, পরীক্ষা ও চিকিৎসা ছাড়া আপনি যেকোনো মুহূর্তে হার্ট অ্যাটাকে মারা যেতে পারেন। বেশির ভাগ মানুষের জন্য বিজ্ঞাপনের ভাষা সত্য হয় না। কোনো কোনো বিজ্ঞাপনে দাবি করা হয়, মৃদু গলা ব্যথা ভয়ংকর আকার ধারণ করতে পারে। আমি হলে এসব বিজ্ঞাপন দেখে অন্তত একটু থামতাম ও ভাবতাম কারা এসব বিজ্ঞাপন তৈরি করেছে, কেন করেছে এবং আমার ওপর এসব বিজ্ঞাপনের বক্তব্যের প্রভাব কী? উত্তর পেতে কষ্ট হওয়ার কথা নয়। এর ভালো চিকিৎসা হলো, এসব কুটিল ও জটিল বিজ্ঞাপনের প্রতি প্রত্যেকের স্বাস্থ্যসম্মত অবিশ্বাস তৈরি করা।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনে ইন্টারনেট আসক্তদের চিকিৎসার জন্য ক্লিনিক খোলা হয়েছে। কিছুদিন আগে এক স্কটিশ উঠতি বয়সী যুবককে ইলেকট্রনিক মেসেজ বা বার্তার প্রতি আসক্তির কারণে চিকিৎসা দেওয়া হয়। সে এক বছরে ইলেকট্রনিক বার্তা প্রেরণের জন্য চার হাজার ৫০০ পাউন্ড খরচ করে। কর্মদিবসের প্রতি মিনিটে একটি বা প্রতিদিন ৪০০ করে এক মাসে সে আট হাজার বার্তা প্রেরণ করে। এ কারণে তাকে চাকরি ছাড়তে হয়। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে যুবকটি বলেছিল, এটা খুব আনন্দদায়ক যখন আপনি কোনো বার্তা পেয়ে থাকেন। এটি ঠিক পিংপং খেলার মতো। একটি বার্তা পাঠানোর কারণে অন্য একটি বার্তা আপনার কাছে ফিরে আসবে। আমি এটা ভীষণ পছন্দ করি। যুবকের পছন্দ হলে তো চলবে না। এই মানসিকতাকে এক বড় ধরনের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সমস্যা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ ধরনের ইন্টারনেট অ্যাডিকশন ডিজর্ডারের জন্য ওষুধ চাই। এটা কোনো সমস্যাই নয়। মানবসেবায় নিবেদিতপ্রাণ বহুজাতিক কম্পানিগুলো এসব সমস্যা সমাধানকল্পে ওষুধ উদ্ভাবনে এক পায়ে দাঁড়িয়ে আছে। অতি স্থূল, অতি দুঃখ, অতি চিকন, অতি সুখ জাতীয় সমস্যা সমাধানে আসছে ওষুধ। একটি মাত্র বড়ি বা ভ্যাকসিন আবিষ্কার করে বায়োটেক মানবসভ্যতার ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক সব সমস্যা নিমেষে উড়িয়ে দেবে। এ ধরনের চিকিৎসাকে আমরা রিটেইলথেরাপি বা খুচরা চিকিৎসা হিসেবে আখ্যায়িত করতে পারি। এরই মধ্যে আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশন কম্পালসিভ শপিংকে (যারা কেনাকাটা না করে থাকতে পারেন না) একটি বড় ধরনের ডিজর্ডার বা সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে উপসংহারে এসেছেন যে অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট সিটালোপ্রাম কম্পালসিভ শপিং ডিজর্ডারে প্রয়োগ করলে খুব ফলপ্রসূ ও নিরাপদ হবে। এ ধরনের ফলপ্রসূ ও নিরাপদ চিকিৎসার জন্য উন্নত বিশ্বে নতুন নতুন ডিজর্ডার ও সিনড্রোম তৈরি করার এক মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। আস্তে আস্তে ম্যাজিক বুলেটের মতো ওষুধ আবিষ্কৃত হওয়া শুরু হয়েছে। এসব কল্পকাহিনীর শেষ নেই। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমরা আসলে চলেছি কোথায়— আর এসব হচ্ছেটাই বা কী? কেউ আবার হতাশ হয়ে ভাবছেন, অত সব চিন্তার দরকার আছে কি? যা হচ্ছে হোক না। আচ্ছা এ রকম ভাবলে কেমন হয়, আমরা আমাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করব, আমাদের সব ধরনের অনিরাপদ ও ভোঁতা সীমাবদ্ধতা, দুঃখকষ্ট, ছলচাতুরী, ছলা-কলাকৌশল দূর হয়ে যাবে যখন আকাশ ফুটতে থাকবে, বিশ্বের সব বরফ গলে যাবে। সব মাছ মারা যাবে, ভূপৃষ্ঠ পুড়ে ছাই হয়ে যাবে এবং অগণিত মানুষ মারা যাবে একের পর এক বোমা বিস্ফোরণে। তার পরও আমাদের মুখে হাসি লেগে থাকবে আর আমাদের মনপ্রাণ আনন্দে নাচতে থাকবে। সব রকম ডিজর্ডারেও আমরা অর্ডারে থাকব। আর তা সম্ভব হবে ওষুধ কম্পানিগুলো কর্তৃক উদ্ভাসিত নতুন নতুন জাদুকরী ওষুধের মাধ্যমে। আসুন, আমরা সবাই নৃত্য করি আর সেই জাদুর ওষুধের জন্য অপেক্ষায় থাকি।

লেখক : অধ্যাপক, ফার্মাসি অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Add Comment

Click here to post a comment



সর্বশেষ খবর