জাতীয়

অনুমোদন পেল আলোচিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

ruppur-josna-6-12-16অনুমোদন পেল বহুল আলোচিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প। এটি দেশের ইতিহাসে এ যাবতকালের সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রকল্প। এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৯৩ কোটি টাকা।

মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প হিসেবে এটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল। এ সময় পরিকল্পনা সচিব তারিক-উল-ইসলাম, আইএমইডি সচিব ফরিদ উদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ভিভিইআর-১২০০ (এইএস-২০০৬) রিএক্টরের দুইটি বিদ্যুৎ ইউনিট (ইউনিট-১ ও ২) এর সমন্বয়ে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। সেই সঙ্গে এটি পরিচালনার জন্য বিভিন্ন ধরনের ভৌত অবকাঠামো তৈরি, বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার জন্য পরমাণু প্রযুক্তি সংক্রান্ত বিষয়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যোগ্য ও দক্ষ মানব সম্পদ গড়ে তোলা এবং কার্বনমুক্ত ও বেইসলোড বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সহায়তা সম্ভব হবে।

একনেকে জানানো হয়েছে, পামাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি ৯১ লাখ টাকা। এর মধ্যে প্রকল্প সাহায্য হিসেবে রাশিয়া দিচ্ছে ৯১ হাজার ৪০ কোটি টাকা। চলতি বছর থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে গত ২৬ জুলাই রাশিয়ার অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মধ্যে ১১ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের স্টেট এক্সপোর্ট ক্রেডিড (ঋণ) চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর সুদের হার হচ্ছে ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এর সঙ্গে লাইবর (লন্ডন ইন্টার ব্যাংক অফার রেট) যুক্ত হবে। তবে তা কোনভাবেই ৪ শতাংশের বেশি হবে না। এছাড়া ঋণ ব্যবহার কাল ৮ বছর, গ্রেস পিরিয়ড ১০ বছর এবং পরিশোধ করতে হবে ২০ বছরে।

সূত্র জানায়, দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে ১৯৬০ সালে প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এজন্য ১০৬০, ১৯৭৭-৭৮ এবং ১৯৮৮-৮৯ সালে কারিগরি ও অর্থনৈতিক ও আর্থিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়। কিন্তু সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে এটি নির্মাণ সম্ভব হয়নি। সরকারের বিদ্যুৎ খাতের মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহের ১০ শতাংশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ থেকে পাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

এ অবস্থায় আর্ন্তজাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এবং গাইডলাইন অনুযায়ী পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ৫ হাজার ৮৭ কোটি ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ (প্রথম পর্যায়) শীর্ষক একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এটি ২০১৩ সালের ২ এপ্রিল একনেকে অনুমোদন লাভ করে। বর্তমানে এ পর্বের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ১ ও ২ নং ইউনিট এর বিস্তারিত ডিজাইন তৈরি, প্রশিক্ষণ, সরঞ্জামাদি সংগ্রহ, এলটিএমই সংগ্রহ, দুটি ইউনিট নির্মাণ, পারমাণবিক জ্বালানী সংগ্রহ, কমিশনিং ও টেস্টিং ইত্যাদি। এছাড়া প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় ৩৬৯ জন এবং পরমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অন্যান্য কাজ পরিচালনার জন্য ২ হাজার ৫৩৫ জন জনবল নিয়োগ, প্রকৌশল সরঞ্জামাদি স্থাপন, বিভিন্ন ধরণের কম্পিউটার, এক্সেসরিজ ও সফটওয়্যার সংগ্রহ, ভূমি অধিগ্রহণ, পূর্ত নির্মাণ কাজ করা হবে।

Add Comment

Click here to post a comment