অর্থনীতি-ব্যবসা

অনলাইনে ব্যবসা করতে চান?

ঘরে বসে নিজেদের স্বাবলম্বী করতে অনলাইনে মেয়েদের ঝোঁক বেশি হলেও, অনেক ছেলেও ক্যারিয়ার গড়ছেন অনলাইন ব্যবসায়। চাকরির ফাঁকে ফাঁকে রোজগারের উদ্দেশ্য থেকে অনেকে অনলাইন ব্যবসা শুরু করলেও এখন এটিই তাঁর প্রধান পেশা। অনেকে চাকরি ছেড়ে দিয়ে পুরোপুরি অনলাইন ব্যবসায় জড়িয়েছেন।

অনলাইন ব্যবসায় যেমন আছে নিজস্ব স্বাধীনতা, তেমনই আছে সহজেই ব্যবসা পরিবর্তনের সুযোগ। সুই থেকে শুরু করে ভারি পণ্য এখন বেচাকেনা হয় অনলাইনে।

অনলাইন ব্যবসা মানে শুধু ফেসবুক ভিত্তিক ব্যবসায় নয় কিন্তু। ইন্টারনেটের যেকোনো মাধ্যম ব্যবহার করেই ব্যবসা চালানো যায়।

সফল অনলাইন ব্যবসায়ী তাসনিয়া বলেন, প্রতিটা ব্যবসার মূলে থাকতে হবে পর্যাপ্ত গবেষণা ও যোগাযোগ। ক্রেতাদের ঠিক সময়ে উত্তর না করলে সবই হবে পণ্ডশ্রম। আরেক ব্যবসায়ী আরফান ও তাঁর বোন পলি বলেন, দোকানের মতো নির্দিষ্ট সময় নয়, অনলাইন শপে ১৫ থেকে ২০ ঘণ্টা সময় দিতে হয়। আরও অনেক অনলাইন ব্যবসায়ীদের মতামত থেকে, ব্যবসার জন্য প্রয়োজনীয় গাইডলাইন দেওয়া হলো।

অনলাইনে ব্যবসা শুরু করার আগে, পরিচিতদের মধ্যে পণ্য বেচার অভ্যাস করতে পারেন। এর মাধ্যমে অন্তত ক্রেতা সামলে নেওয়া শিখা যায়। কোথায় এবং কতটা পণ্য কিনবেন, ডেলিভারির সময় মেনে চলা, বাজার দর বোঝা ইত্যাদিও জেনে নিতে পারবেন। পরিচিত বলে ঢিলোঢালা না করে পেশাদারিত্ব মেনে চলুন।

  • পণ্যের পূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করে, তবেই অনলাইনে ব্যবসা শুরু করা উচিত। এর জন্য বাজার যাচাই, বন্ধুদের জিজ্ঞেস, অন্যান্য ফেসবুক পেইজ ঘাটাঘাটি, অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।

  • আপনার ব্যবসায়ের জন্য সহজ ও সুন্দর একটি নাম ঠিক করতে পারেন। সহজে মনে রাখতে পারবে এমন নাম দিয়ে ক্রেতাদের আকর্ষণ করা যায়।

  • আকর্ষণীয় ডিজাইনের পাশাপাশি ওয়েবসাইট বা ফেসবুক পেইজ এমনভাবে সাজান, যেন ক্রেতারা সব ধরনের তথ্য সহজে খুঁজে পান। শুধু ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও ব্যবসা করা সম্ভব। তবে ফেসবুক পেইজ তা অনেক বেশি সহজ করে দিবে।

  • অনলাইনে, ক্রেতাদের ছবির ওপর নির্ভর করে অর্ডার দিতে হয়। এজন্য ভালো মানের ও বাস্তব ছবি ব্যবহার করুন। একই ভাবে বেশি লাভ নয় বরং কম দামে ভালো প্রোডাক্ট বিক্রি করাতে লক্ষ্য রাখুন।

  • শুরু থেকে ব্যবসায়ের নিজস্বতাকে প্রচার করুন। অর্থাৎ আপনার ব্যবসায়ের নিজস্ব লোগো, থিম কালার ও ডিজাইন ইত্যাদি ঠিক করুন প্রথম থেকেই। এতে পরিচিতি পেতে সুবিধা হবে।

  • ব্যবসায় থেকে আসা মুনাফা পুনরায় ব্যবসায়েই খাটান। তাহলে বাড়তি অর্থের চাপ পড়বে না আপনার ওপর।

  • একই পণ্য আপনিসহ আরও অনেকেই বিক্রি করবে এটাই স্বাভাবিক। তাই ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগে থাকতে হবে সক্রিয়। নাহলে তারা অন্য অনলাইন শপ থেকে কিনে নিবে। ক্রেতার একাধিক প্রশ্ন, অহেতুক কথা ইত্যাদি সবকিছু ধৈর্য রাখবেন। অন্যদের প্রতি হলেও, আপনার বাজে ব্যবহার ক্রেতার নিজের মনে দ্বিধা জাগাবে।

  • ডেলিভারি পক্রিয়া সহজ ও দ্রুত রাখুন। ক্যাশ অন ডেলিভারি এখন সবথেকে জনপ্রিয়। ট্রেকিং পদ্ধতি চালু করা সম্ভব না হলে, অন্তত ক্রেতাকে ডেলিভারি লোকের নাম্বার দেওয়া যেতে পারে। এতে ক্রেতা সন্তুষ্ট ও নিশ্চিত থাকতে পারবে।

প্রচারের উপায়

একবার জনপ্রিয়তা পেয়ে গেলে ব্যবসা আপনার দাঁড়িয়ে যাবে। যতই তথ্য দিন না কেন একমাত্র পণ্য ব্যবহারের বাস্তব অভিজ্ঞতাতেই ক্রেতারা আপনার পণ্যের ব্যপারে নিশ্চিত হবে। ফেসবুক গ্রুপে পোস্টের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠান রেখে গিফট হিসেবে আপনার পণ্য দিতে পারেন। ডিসকাউন্ট দামে বন্ধুদের মধ্যে বিতরণ করতে পারেন। আবার একটি পণ্যের সঙ্গে অন্য পণ্য সেট হিসেবেও বিক্রি করে প্রচার করতে পারেন। এছাড়াও লিফলেট, ফেসবুকে বিজ্ঞাপনও দিতে পারেন। অনলাইনে পোস্ট বা বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে যেসব কিওয়ার্ড নিয়ে মানুষ বেশি সার্চ দেয় সেগুলো ব্যবহার করতে পারেন।